ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, পাঠ-2

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।আজ সোমবার। 6 মুহাররম 1443 হিজরী, 16 আগস্ট 2021 খ্রি. ও 1 ভাদ্র 1428 বঙ্গাব্দ। 

 আজকের বিষয়: ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, পাঠ-2 

[পাঠ-1 এর পর থেকে। টপিক্সটি সম্পূর্ণ বোঝার সুবিধার্থে নিম্নের ওয়েবসাইট হতে প্রবন্ধ-1 ও পাঠ-1 পড়ে এর পর আজকের এ প্রবন্ধটি,  পাঠ-2 পড়ার ও দেখার (ইউটিউব ও ফেসবুকে bondhon foundation education এ নামীয় চ্যানেল/ফেজে) অনুরোধ রইলো]

 [লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (গুগল অথবা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন, 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

(ধারাবাহিক) ঈমানের 77 টি শাখা রয়েছে। একজন মুমেনকে খাঁটি মুসলমান হতে হলে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলো শাখায় 100% বিশ্বাস করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে ও এ সবগুলোতে পরিপূর্ণ আমল করতে হবে। আর আপনারা এতে আমল করবেন এ উদ্দেশ্যে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলোর নাম ও প্রয়োজনীয় বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে নিম্নে পেশ করলাম। আশা করি এ প্রবন্ধটি সহ এ সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রবন্ধ পড়বেন ও সবগুলো ভিডিও দেখবেন এবং মেনে চলবেন-

(পূর্ব প্রকাশের পর থেকে)

 36. আল্লাহু তা’য়ালার যিকির করা।

37. বেহুদা কথা হতে এবং এ জাতীয় গুনাহ হতে যেমন-মিথ্যা, পরনিন্দা, গীবত-চোগলখুরী, গালি-গালাছ, বদ্-দোয়া করা, লা’নত দেয়া, অভিশাপ দেয়া, গান গাওয়া, গান শোনা ইত্যাদি হতে বেঁচে থাকা এবং সদা সত্য কথা বলা।

38. ওযু-গোসল করা, কাপড় পাক-ছাফ রাখা।

39. নামাযের পাবন্দ থাকা। অর্থাৎ সময় মতো সুন্নাত মোতাবেক জামাতে নামাজ আদায় করা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট থাকা।

40. হিসাব মোতাবেক স্বীয় সম্পদের যাকাত ও ছদকা-ফেতরা দেয়া।

41. রমজান মাসের সবগুলো রোজা রাখা।

42. সামর্থ হওয়া মাত্রই হজ্জ্ব করা।

43. রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করা।

44. যে সংসর্গে বা দেশে থেকে ঈমান রক্ষা ও ইসলাম ধর্ম পালন করা যায় না, সেই সংসর্গ এবং সেই দেশ পরিত্যাগ করে হিজরত করা।

45. আল্লাহু তা’য়ালার নামে মান্নত মানিলে তা পুরা করা।

46.  আল্লাহু তা’য়ালার নাম নিয়ে কোন কাজের জন্য কসম করলে, যদি সে কাজ গোনাহের কাজ না হয়, তবে তা পূর্ণ করা।

47. আল্লাহু তা’য়ালার নামে কসম খেয়ে ভঙ্গ করলে তার কাফ্ফারা দেয়া।

48. ছতর ঢেকে রাখা (পুরুষের ছতর নাভির উপর থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। স্ত্রী লোকের ছতর মাথা হতে পা পর্যন্ত)।

49. কোরবানী করা।

50. মৃত ব্যক্তির কাফন-দাপন করা।

51. ঋণ পরিশোধ করা।

52. কাজ-কারবারে কাউকে ধোঁকা না দেয়া, যেমন-মাপে কম দেয়া, আনার সময় বেশি মেপে আনা, ঘুষ খাওয়া, সুদ দেয়া নেয়া, ইত্যাদি শরা’র বরখেলাপ কার্য করা।

53. সত্য সাক্ষ্য গোপন না করা।

54. কামরিপু প্রবল হলে বিবাহ করা।

55. অধীনস্থ স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, চাকর-নওকর প্রভৃতির হক আদায় করা।

56. মা-বাপকে শান্তিতে রাখতে সচেষ্ট হওয়া।

57. সন্তানের লালন-পালন করা (তাদেরকে আদব-কায়দা, ধর্মজ্ঞান এবং হালালভাবে দুনিয়ার জীবন-যাপনের সদুপায় শিক্ষা দেয়া)।

58. ভাই-বেরাদর, বোন-ভাগ্নে, জাতি-কুটম্ব, পাড়া-প্রতিবেশী ইত্যাদির সঙ্গে অসদ্ব্যবহার না করা, অর্থাৎ প্রত্যেকের হক আদায় করা।

59. (চাকর-নওকর হলে) মনিবের তাবেদারি করা।

60. ন্যায় বিচার করা।

61. মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে একতা ভঙ্গ না করা। অর্থাৎ ফরজ কাজের মধ্যেতো একতা ভঙ্গ করা যাবেই না; মোবাহ্ কাজের মধ্যেও একতা ভঙ্গ না করা।

62. মুসলমান বাদশা এবং মুসলমান আমিরের (নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির) আদেশ পালন করা। অবশ্য আমিরের আদেশ যদি শরীয়তের হুকুমের বিপরীত হয়, তবে সে আদেশ পালন করা যাবে না।

63. ঝগড়া-বিবাদ মীমাংশা করে দেয়া।

64. সৎ কাজে সাহায্য করা।

65. সৎ কাজে আদেশ, বদ কাজে নিষেধ করা।

66. ইসলামি হুকুমত কায়েম হলে, তাহলে প্রশাসনিক ভাবে শরীয়ত অনুযায়ী শাস্তির বিধান সমূহ বাস্তবায়ন করা। যেমন-কেহ চুরি করলে তার হাত কেটে দিতে হবে। যেনা করলে ছঙ্গেছার করতে হবে অথবা একশত কোড়া লাগাতে হবে। মিথ্যা তোহমত লাগালে আশি কোড়া লাগাতে হবে। মদ্যপান করলে আশি কোড়া লাগাতে হবে। ডকাতি করলে তার হাত-পা কেটে দিতে হবে। খুনের বদলে খুন কেছাছ করতে হবে। প্রজা বিধর্মী হলেও তার প্রতি অন্যায় ব্যবহার করা যাবে না। আর নিজ দেশে ইসলামি হুকুমত না থাকলে তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ইসলামি হুকুমতের জন্য চেষ্টা, তদবীর করতে হবে ও মহান রবের নিকট দোয়া করতে হবে।

67. প্রয়োজন হলে ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে জেহাদ করা।

68. কারো আমানত কাছে থাকলে (রীতিমতো) তার হেফাজত করা এবং সময় মতো তার জিনিস তাকে ফেরত দেয়া।

69. অভাবগ্রস্থ লোক ধার চাইলে তাকে ধার দেয়া।

70. পড়শীকে সম্মান ও সহানুভূতি করা ( কোন পড়শী কষ্ট দিলে তা সহ্য করা, তার বিপদ-আপদ ও বালা মুছিবতের সময় তাকে সাহায্য করা ও সম-বেদনা প্রকাশ করা)।

71. হালাল উপায়ে হালাল রুজি উপার্জন করা।

72. শরীয়তের বিধি অনুযায়ী খরচ করা।

73. মুসলমান ভাইকে দেখিলে চেনা হউক বা অচেনা হউক তাকে “আসসালামু আলাইকুম” বলে সালাম দেয়া ও কোন মুসলমান সালাম করলে  “ওয়াআলাইকুমুস সসালাম” বলে তার জবাব দেয়া।

74. কোন মুসলমান হাঁচি দিতে শুনিলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা এবং হাঁচি দাতা প্রতি উত্তরে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলে এর জবাব দেয়া।

75. অনর্থক কাকেও কষ্ট না দেয়া।

76. খেলাপে শ’রা বা নাজায়েজ খেলাধুলা বা রং তামাশা হতে বেঁচে থাকা।

77. রাস্তার মধ্যে কোন কাঁটা বা ইট-পাথর ইত্যাদি কোন কষ্টদায়ক জিনিস থাকলে তা সরিয়ে ফেলা।

এ সাতাত্তর প্রকার কাজ সম্পূর্ণ আদায় করতে পারলে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আপনার ঈমান পূর্ণ হবে। এর একটি কাজও বাকি থাকলে ঈমান নাকেছ বা অসম্পূর্ণ থাকবে।

আবার আপনার ঈমানকে আপনার নিকট সংরক্ষিত বা টিকিয়ে রাখতে হলে অথবা মহান আল্লাহু তা’য়ালার কঠিন আজাব থেকে মাফ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই অন্তত কবীরা গুনাহ সমূহ (কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে কঠিন আজাবের ঘোষণায় নিষিদ্ধকৃত) শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকার ও বিশ্বাস করতে হবে এবং যা অবশ্যই 100% বর্জন করতে হবে। তাই একজন ঈমানদারকে যেসব বড় বড় গুনাহ পুরো পুরি বাদ দিতে হবে তা এ সিরিজের পরবর্তী প্রবন্ধ, প্রবন্ধ নাম্বার চার থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিবৃত করবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। আশা করি সে পর্যন্ত সাথেই থাকবেন।

(চলবে, বেহেশতি জেওর অবলম্বনে প্রবন্ধটি লিখা হয়েছে)

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এবং আমাদের ফেসবুক গ্রুপ bondhon foundation group এ লিখিত আকারে ও bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ওয়েবসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমাদের এ সাইটটিতে ক্লিক করে (ক্রোম ব্রাউজারে অথবা গুগলে লিখে সার্চ করে) bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য [ 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com ]  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (ক্লিক করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।] 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: