ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, পাঠ-1

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।আজ শুক্রবার। 19 জ্বিলহজ্জ 1442 হিজরী, 30 জুলাই 2021 খ্রি. ও 15 শ্রাবণ 1428 বঙ্গাব্দ। 

 আজকের বিষয়: ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, পাঠ-1 

(পূর্ব প্রকাশের অর্থাৎ প্রবন্ধ-1 এর পর থেকে। এ টপিক্সটি সম্পূর্ণ বোঝার সুবিধার্থে নিম্নের ওয়েবসাইট হতে প্রবন্ধ-1 পড়ে এর পর আজকের এ প্রবন্ধটি,  পাঠ-1 পড়ার ও দেখার অনুরোধ রইলো)

 [লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (ক্লিক করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

(ধারাবাহিক, পূর্ব প্রকাশের পর থেকে) ঈমানের 77 টি শাখা রয়েছে। একজন মুমেনকে খাঁটি মুসলমান হতে হলে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলো শাখায় 100% বিশ্বাস করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে ও এ সবগুলোতে পরিপূর্ণ আমল করতে হবে। আর আপনারা এতে আমল করবেন এ উদ্দেশ্যে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলোর নাম ও প্রয়োজনীয় বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে নিম্নে পেশ করলাম। আশা করি এ প্রবন্ধটি সহ এ সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রবন্ধ পড়বেন ও সবগুলো ভিডিও দেখবেন এবং মেনে চলবেন-

1. আল্লাহু তা’য়ালার উপর ঈমান আনা। অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা একক। তিনি সর্বশক্তিমান। একক ভাবে সর্বশ্রষ্টা। অনাদি, অনন্ত। তিনি চিরকাল আছেন, চিরকাল থাকবেন। তাঁহার কোন সৃষ্টিকর্তা নাই। তিনিই সকলের সৃষ্টিকর্তা। তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর কোন পিতা-মাতা, ছেলে-সন্তান বা স্ত্রী-পুত্র ইত্যাদি নেই। তিনি জনকও নন, জাতকও নন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। কোন কাজ করতে তিনি কারো সাহায্য নেন না এবং তিনি হও বললেই যে কোন কাজ বা যে কোন প্রাণ বা যে কোন অবয়ব তাৎক্ষণিক হয়ে যায়। তাঁর কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় না এবং তিনি কারো সাহায্য নেন না বা তাঁকে তাঁর অংশীদার হিসেবে সাহায্য করতে পারে এ মহা সৃষ্টিজগতের মাঝে এমন কেউ নেই। যেহেতু তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই। আমাদের চার পাশে যা কিছু রয়েছে, তা চোখে দেখি আর না দেখি এ মহা সৃষ্টিজগতের মাঝে এ সকল সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা তিনি একা। যেখানে কোন কিছুর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বা তাঁর অন্যান্য যে কোন গুণের অধিকারী হিসেবে আর কেউ নেই। তাঁর যে কোন ক্ষেত্রে বা যে কোন কাজে কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তিনিই সকলের মৃত্যু দাতা এবং পুন:উত্তোলনকারী। যেখানে আর কেউ নেই। সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। যখন কোন কিছু বা কোন সৃষ্টিই ছিলো না, তখন শুধু তিনিই একক ভাবে ছিলেন। আবার যখন তাঁরই ইচ্ছা ও শক্তিতে কেয়ামত হয়ে সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, তখনও তিনিই থাকবেন; আর কিছু না, আর কেউ না। আমাদের মতো তাঁর কোন আকার-আকৃতি নাই। তাঁর আকার-আকৃতি তাঁর মতো। যা দুনিয়ার জীবনে কোন মানুষ বা অন্যকোন সৃষ্টি দেখতে পায়নি, কোনদিন দেখতে পাবেও না; এমনকি এ বিষয়ে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না বা কল্পনা করার শক্তি-সামর্থও কারো থাকবে না। তাঁর কোন ক্ষুদা-তৃষ্ণা, ঘুম, মোহ বা আবেগ এসব নেই। এসবের তাঁর প্রয়োজন পড়ে না। তিনি কারো নিকট মাথা নত করেন না। সকলকেই তাঁর নিকট মাথা নত করতে হয়। দুনিয়াতে মানুষের বিষয়ে এবং প্রাকৃতিক ভাবে যা কিছু হচ্ছে অর্থাৎ রোগ, শোক, ক্ষুদা, তৃষ্ণা, সুস্থতা-অসুস্থতা, দূর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভূমিকম্প, ঝড়, তুফান, ভূমিধস ইত্যাদি এবং মানুষ দ্বারা সম্পাদিত যে কোন কর্ম মূলত: তাঁরই ইচ্ছায় এবং তাঁরই শক্তিতে ঘটছে। এ ধরনের কোন কিছু তাঁর ক্ষেত্রে ঘটে না বা ঘটার কোন সুযোগ বা উৎস নেই। আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি আর না দেখি সব কিছুই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারে না, তাঁকে ছাড়া। আর তিনি আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করতে পারেন মাখলুককে ছাড়া। এসব বিষয়ে 100% ঈমান ও এক্বীন স্থাপন করা।

2. ইহা বিশ্বাস করা যে, মানুষ সহ মানুষের চারপাশের জানা অজানা সকল জিনিসের কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিলো না, এক আল্লাহই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন।

3. ফেরেশতাদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা।

4. ইহা বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহু তা’য়ালা যত কিতাব বা সহীফা পয়গম্বরদের উপর নাজিল করেছেন, তার সব কিছূই সত্য। অবশ্য বর্তমানে কোরআনে পাক ব্যতিত অন্যান্য কোন কিতাব বা সহীফার হুকুম বিদ্যমান নেই।

5. ইহা বিশ্বাস করা যে, সকল পয়গম্বর সত্য

6. জগতে বা মানুষের জন্ম, মৃত্যু, হায়াত, রিজিক, সম্মান, অসম্মান ইত্যাদি সকল বিষয়ে বা যে কোন সৃষ্টির বিষয়ে যাহা কিছু হয়েছে, হচ্ছে বা হবে; সবই মহান আল্লাহু তা’য়ালা আদিকাল হতে জানেন এবং তাঁর জানার উল্টা বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই হতে পারে না। এই ইয়াক্বিন দেলে বিশ্বাস করা। (ইহাকে বলে তক্বদীরে বিশ্বাস)

7. কিয়ামত নিশ্বয় হবে। পাপ-পুণ্যের বিচার হবে। পুনরায় সকলকে জীবিত হয়ে সমস্ত জীবনের (মানুষ ও জ্বীনের) পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে হিসাব দিতে হবে। পাপের শাস্তি দোযখে, পূণ্যের পুরষ্কার বেহেশতে দেয়া হবে। এগুলোতে বিশ্বাস করা।

8. বেহেশত আছে। এ কথার এক্বীন দেলে বিশ্বাস করা।

9. দোযখ আছে । এ কথায় পূর্ণ বিশ্বাস করা।

10. আল্লাহু তা’য়ালার প্রতি (গাঢ় ভক্তি ও অকৃত্তিম) ভালোবাসা রাখা।

11. আল্লাহু তা’য়ালার সকল নবী-রাসূলদের (আ:) সঙ্গে আন্তরিক ভক্তি ও ভালোবাসা রাখা।

12. কাহারো সহিত দুশমনি বা দোস্তি রাখিলে শুধু আল্লাহু তা’য়ালার জন্যেই রাখা।

13. প্রত্যেক কাজের নিয়ত শুধু আল্লাহু তা’য়ালার উদ্দেশ্যে এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য করা।

14. কোন গোনাহের কাজ হয়ে গেলে, তার জন্য অন্তরে কষ্ট অনুভব করে অনুতপ্ত হয়েমহান আল্লাহু তা’য়ালার কাছে তওবা এস্তেগফার করা।

15. আল্লাহু তা’য়ালাকে ভয় করা।

16. আল্লাহু তা’য়ালার রহমতের আশা সর্বদা রাখা। নিরাশও না হওয়া এবং নির্ভীকও না হওয়া, এভাবে থাকা।

17. মন্দ কাজ করতে [ অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:) এর নীতি বিরুদ্ধ কাজে) লজ্জা করা।

18. আল্লাহু তা’য়ালার নেয়ামতের শোকর করা।

19. অঙ্গীকার পূর্ণ করা।

20. আল্লাহু তা’য়ালার তরফ হতে কোন বালা মুছিবত, রোগ-শোক বা বিপদ-আপদ আসলে ধৈয্য ধারণ ও ছবর করা।

21. নিজকে অপর হতে ছোট মনে করা।

22. সৃষ্ট জীবের প্রতি দয়া (রহম) করা।

23. আল্লাহু তা’য়ালার তরফ হতে যা কিছু হয়, তাতে আন্তরিক ভাবে সন্তুষ্ট থাকা।

24. প্রত্যেক চেষ্টার ফল যে আল্লাহু তা’য়ালার হাতে ইহা বিশ্বাস করে প্রত্যেক ফলের জন্য আল্লাহু তা’য়ালার উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা।

25.  নিজের গুণে নিজে গর্বিত না হওয়া। ( নিজের গুণগুলিকে মহান আল্লাহু তা’য়ালার দান মনে করতে হবে)

26. কারো সাথে কপটতা বা মনোমালিণ্য না রাখা।

27. কারো সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা।

28. রাগ না করা।

29. কাহারও অহিত বা অশুভ কামনা না করা।

30. দুনিয়ার ( ধন-দৌলত বা দুনিয়ার প্রভূত্ব-প্রিয়তার) সঙ্গে মুহাব্বত না রাখা।

31. কালেমা শরীফ ( কালিমা তায়্যিবা ও কালিমা শাহাদাত) মুখে স্বীকার করা।

32. কোরআন শরীফ তিলাওয়াত করা।

33. এলমে দ্বীন শিক্ষা করা।

34. ধর্ম বিদ্যা, ধর্ম জ্ঞান শিক্ষা দেয়া।

35. আল্লাহু তা’য়ালার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের মাকছুদগুলির জন্য দো’য়া (প্রার্থনা) করা।

(চলবে, বেহেশতি জেওর অবলম্বনে প্রবন্ধটি লিখা হয়েছে)

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এ লিখিত আকারে এবং bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ব্লগসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমাদের এ সাইটটিতে ক্লিক করে bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য [ 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com ]  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (ক্লিক করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: