কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-2 (ধারাবাহিক)

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।আজ মঙ্গলবার। 14 মুহাররম 1443 হিজরী, 24 আগস্ট 2021 খ্রি. ও 9 ভাদ্র 1428 বঙ্গাব্দ।

নিবেদন ও আহবান: এ ওয়েবসাইটটি রেডী করা হচ্ছে মূলত, (১) ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম, তা অবিশ্বাসীদেরকে যুক্তির আলোকে সহজ ভাষায় বোঝানো ( লিখিত টেক্সট ও ভিডিও কন্টেট এর মাধ্যমে) , তথা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে; (২) ধর্মান্তরীত হওয়ার মাধ্যমে আগত নতুন মুসলিমদের ইসলামের বিভিন্ন আমল-ইবাদত ও নিয়ম-কানুন শিক্ষার সুযোগ ও ক্ষেত্র খুবই কম। তাই তারা যাতে সহজে এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ( bondhonfoundation.com ) দ্বীন শিক্ষা করতে পারে বা সহযোগিতা পায়, সে উদ্দেশ্যে। (৩) এছাড়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যেও বিভিন্ন কারণে অনেক সময় ইসলামী জ্ঞানের অপূর্ণতা থেকে যায়, তারাও যাতে তার প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞানটুকু এ ওয়েয়বসাইটের মাধ্যমে আহরণ করতে পারে, সে উদ্দেশ্যে। অতএব এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আপনাদের সকলের নিকট দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। আর তাই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল bondhon foundation education ও bondhon foundation official এ চ্যানেল দু’টি সাবস্ক্রাইব করার জন্য এবং ফেসবুক ফেজ bondhon foundation education,  bondhon foundation official ও knowledge of islam bondhon এ পেজ তিনটি লাইক, ফলো করার জন্য, এছাড়া ফেসবুক গ্রুপ bondhon foundation group, এ গ্রুপের সদস্য হওয়ার জন্য ও ভিডিও গুলি লাইক, শেয়ার করার জন্য এবং ইসলাম সম্পর্কে যে কোন কিছু জানতে ও আমল ইবাদত করতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করারজন্য বা আমাদের ওয়েবসাইটের সহযোগিতা নেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আর কথা না বাড়িয়ে সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায়, আরবী বা উর্দূ বা কোন বিদেশী ভাষা বা অতিরিক্ত কোরআন-হাদিস ব্যবহার না করে, সাধারণ মানুষের নিকট শুধুমাত্র বাংলায় মূল বিষয়টির সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনীয় বিবরণ সহ বুঝিয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে আজকের বিষয় আরম্ভ করছি। 

 আজকের বিষয়: কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-2 

[লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

কবীরা গুনাহ্ সমূহের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়:-

লক্ষ্যণীয়: এ গুনাহ্ সমূহ ভয়ানক এবং অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখা দিবো না, বা এ বিষয়ে বিশেষ কোন ওয়াজ করবো না। কারণ আপনাদেরও জ্ঞান রয়েছে; আর ভিডিও অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তাই আপনারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত কোরআন ও হাদিসের বাণী দেখে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন, এ আমার অনুরোধ।

(পূর্ব প্রকাশের পর থেকে)

3. মানুষ হত্যা করা: আল্লাহু তা’য়ালা ঘোষণা করেন,“ যে লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন বিশ্বাসী মুমিনকে খুন করবে, তার পরিণাম ফল চিরকালীন দোযখবাস। আল্লাহু তা’য়ালা তারপ্রতি ক্ষুদ্ধ হন, তাকে অভিশাপ দেন এবং তার জন্য ভয়ংকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।”–(সূরা আননিসা: ৯৩)

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন, “যে লোক কোন অমুসলিম নাগরিককে খুন করবে, সে বেহেশতের ঘ্রাণও পাবে না, যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের পথের দূর থেকে পাওয়া যাবে।–(বোখারী)।

4. জাদু টোনা করা:  এ প্রসঙ্গে আল্লাহু তা’য়ালা ঘোষণা করেন, “ কিন্তু শয়তানেরাই কুফরীতে রত হয়ে মানুষকে যাদু শিক্ষা দিতো” ।–(সূরা আল বাকারা: ১০২)। দেখুন যাদুকরকে এখানে শয়তানের সাথে তুলনা করা হয়েছে ও ইহা শয়তানের কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া  জাদুকর সর্বাবস্থায় কুফরীতে লিপ্ত থাকে। সে জীবনের প্রতিটা সময় কবীরা গুনাহ ও কূফরীর মধ্যে নিমজ্জিত অবস্থায় দিনাতিপাত করে।

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন, “ যাদুকরের নির্ধারিত শাস্তি তরবারি দিয়ে তাকে হত্যা করা।–(তিরমিযী)। যাদুকরের প্রতি শরিয়তের শাস্তি হলো প্রাণদন্ড।

তবে এ প্রসঙ্গে ইমাম খাত্তাবী (র:) বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াত অথবা আল্লাহু তা’য়ালার নামে তাবিজ, ঝাড়-ফুঁক জায়েজ। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা:) হযরত হাসান (রা:) ও হযরত হুসাইনকে (রা:) আল্লাহু তা’য়ালার কালামের দ্বারা ঝাড়-ফুঁক দিয়েছিলেন বলে প্রমাণিত রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক জ্ঞাতব্য: তবে এর মাধ্যমে শুধু মোটা অংকের অর্থ কিভাবে আদায় করা যায়, উদ্দেশ্য এ রকম হলে , শুধু মনগড়া ব্যক্তিগত অর্থের ধান্দা হলে (কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যা বই দেখিয়ে হোক বা নিজের কোন মিথ্যা কারিশমা দেখিয়ে হোক) ,  তাহলে অবশ্যই ইহা ঝুলুম ও কবীরা গুনাহের শামিল হবে। মানুষের প্রতিই যার মুহাব্বত থাকবে না, আল্লাহু তা’য়ালার ইবাদাতের প্রতিই যার পূর্ণ আনুগত্য থাকবে না; সে কখনো আল্লাহু তা’য়ালার কালাম ও রাসূলের (সা:) হাদিস মোতাবেক কোন চিকিৎসক হতে পারে না। সে আসলে শুধু অর্থ লোভী ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরনের লোকগুলো উপর দিয়ে যতই ইসলামের লেবাসধারী হোক, অথবা কোন আলেম (মাদ্রাসায় পড়লেই পরবর্তী জীবনে মানুষ তাকে আলেম বলে পরিচয় দেয়; কিন্তু এ আলেমের আমল যদি জাহেল থেকেও খারাপ হয়, তাহলেওতো তাকে মানুষ আলেম বলবে, তাই সঙ্গত কারণেই এ শব্দটি ব্যবহার করেছি; আমায় মাফ করবেন) হলেও, আপনারা এদের কাছে যাবেন না। মনে রাখবেন, রোগ-শোক এগুলো আপনার প্রতি মহান রবের পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয় (শাস্তি স্বরুপ হলেও) এবং এ পরীক্ষা হয়তো আপনার জন্য সম্মানেরই কারণ হতে পারে, যদি আপনি মুমেন হন। তাই বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিবেন। এছাড়া আপনাকে আরো স্মরণ রাখতে হবে যে,  পবিত্র কুরআন শরীফ যেমন একজন আমেলের বা আমলকারীর সাওয়াবের উচিলা হতে পারে, ঠিক তেমনি এর বদ-আমলকারীর জন্য সমপরিমাণে ইহা কঠিন গুনাহ ও জাহান্নামের কারণও হতে পারে। অতএব এ ধরনের লেবাসধারী মুসলিম আমেলের কোরআন হাদিস দ্বারা আপনি কখনো সুস্থ হবেন বলে মনে হয় না। আর যদি এ ধরনের লোকদের তদবীরে আপনি সুস্থ হনও বা আপনার উপকার হয়ও, তাহলে তা হয়তো আপনার প্রতি মহান রবের পরীক্ষায় অনুতীর্ণেরই পরিচয় বহন করবে। তাই এ ধরনের ধান্দাবাজদের জ্বীন আছে, ভূত আছে, তাবিজ আছে বা আপনাকে বান মেরেছে, এ জাতীয় কথায় কান না দিয়ে বা সমাজের অশিক্ষিত বা কূসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের ভূল বোঝানোয় ভ্রূক্ষেপ না করে বুঝে-শুনে সার্টিফাইড ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। আপনি সমাজের দিকে একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখতে পাবেন, তাবিজ-টোনা, বান, জ্বীন-ভূত এগুলো শুধুমাত্র অনগ্রসর, গরীব ও অশিক্ষীত মানুষেদের কাছেই বেশী; শিক্ষীত, ধনী ও ফরওয়ার্ড মানুষদের কাছে এসব তেমন একটা নেই বললেই চলে। কিন্তু কেন এমনটি হবে? জ্বীন-ভূত কি এদেরকে চোখে দেখে না? শুধু অশিক্ষিত আর গরীব শ্রেণীর লোকদেরকে চোখে দেখে!! এর কারণ কী? আমি বলছি না যে মানুষ, জ্বীন ও মানুষের যাদু, কূ-দৃষ্টি বা তাবিজ-তুমার দ্বারা রোগাক্রান্ত হয় না বা অসুবিধায় পড়ে না। আমি শুধু বলছিলাম, একটু বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতে বা করাতে। এ সমাজ থেকে আমি যা বুঝতে পেরেছি, যারা জ্বীন আছে, ভূত আছে, তাবিজ তুলতে হবে, বান কাটতে হবে (হুজুর এবং খোনার-বদ্য সহ) ; এ জাতীয় কথা বলে, এদের মধ্যকার প্রতি হাজারে হয়তো একজন সহীহ থাকতে পারে, বাকী ৯৯৯ জনই ধান্দাবাজ! হয়তো ধান্দাবাজদের সংখ্যা এ পরিসংখ্যাণেও আসবে না। এ বিষয়ে ধান্দাবাজ যে এত বেশি রয়েছে এ দেশে! আপনাদেরকে বিশেষ করে একটা অনুরোধ করি, এ ধরনের মানষিক রোগীদেরকে গুণীন, বৈধ্য আর অর্থ লোভী হুজুর দিয়ে আর কষ্ট দিবেন না; এমণিতেই এ সমাজের নির্যাতন সহে এ রোগীদেরকে জীবন-যাপন করতে হয় অথবা এ সমাজেরই নির্যাতন আর অপমাণেই এদের অনেককে হয়তো এ রোগী হতে হয়েছিলো!

5. নামাজে অলসতা করা: রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, “ মুমিন ও কাফেরের মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে নামাজ ত্যাগ করা।” মহান আল্লাহু তা’য়ালা বলেন, সুতরাং দুর্ভোগ সেসব নামাজীর জন্য, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।–(সূরা মাউন: ৪, ৫)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহু তা’য়ালার রাসূল (সা:) বলেন, তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছ, সেভাবে নামাজ পড়। আল্লাহু তা’য়ালা আরো বলেন, তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।–(আল-কোরআন: ৩:৪৩)। দেখুন রাসূলুল্লাহ (সা:) এর মতো নামাজ পড়তে হলে এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই জামাতের সাথে নামাজ পড়তে হবে; এর কোনই বিকল্প নাই। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা:) ও তাঁর সাহাবীগণ (রা:) সারা জীবন জামাতের সহিত নামাজ পড়েছেন। তাই নামাজের মতো নামাজ পড়ছি, এ কথা বলে ঘরে একাকী নামাজ পড়ার কোনই সুযোগ নাই। সম্মানীত নামাজী! একাকী ঘরে নামাজ পড়ে, নিজকে হয়ত নামাজের মতো নামাজী হিসেবে মনে করেন; আপনারা যদি মসজিদে নাই যাবেন, তাহলে দয়া করে আমাকে বলতে পারেন, এ সমাজে মসজিদের কী প্রয়োজন ছিলো? রব কেন এ সিস্টেম করেছে? আপনিতো ঘরে নামাজ পড়বেন, তাহলে কার জন্য এ সিস্টেম করা হয়েছে? কেন প্রত্যেক সমাজে এভাবে মসজিদ নির্মাণ করা হয়? আর প্রত্যেক নামাজে এভাবে কেন আজান দেয়া হয়? জনাব! আপনি আজানের কী উত্তর দেন? নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করা, ইহা কী আপনার জন্য আযানের উত্তর ছিলো না? তাই আমার অনুরোধ, এখনো তাওবা করেন, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ুন। প্লিজ বিনা ওজরে ঘরে নামাজ পড়ে, নামাজে অলসতার কবীরা গুনাহে লিপ্ত থাকবেন না। আপনার দেখায় সমাজের বাকী দশ জন লোক হয় ভালো হবে, নয় খারাপ হবে এবং এর গুনাহ বা সাওয়াবের ভাগ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ বিষয়ে  রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “ আমার ইচ্ছা হয়, নামাজের নির্দেশ জারি করি, আর এক লোকের ইমামতে নামাজের জামাত শুরু হোক, অনন্তর আমি শুকনো লাকড়ী বহনকারী একদল লোক নিয়ে ঐ লোকদের  বাড়ীতে গিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দেই, যারা জামাতে শামিল হয়নি।–(বোখারী ও মুসলিম)। দেখুন, যে নবী দয়া, মায়া আর প্রেমের সাগর; জীবনে কখনো শত্রু-মিত্র কারো ক্ষতি হোক, কেউ অসুবিধায় পড়ুক ইহা চাননি; আজ তিনি তাঁরই (গাফেল) উম্মতের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার কথা বলছেন। একজন খারাপ লোক এ ধরনের কথা বলতে পারেন; কিন্তু যিনি রহমতুল্লিল আলামিন, তিনি মানষিক ভাবে কতটুকু আঘাত খেলে, কতটুকু ব্যাথায় জর্জরিত হলে বা বিষয়টির গুরত্ব ও মাহাত্ম কী রকম হলে এ ধরনের কথা বলতে পারেন!? জীবনে এত কিছু বোঝেন; এ সহজ বিষয় গুলো কেন বোঝেন না? নবীজীর (সা:) উম্মত দাবী করেন, অথচ তাঁর মতের বিপরীত চলেন? তাহলে আপনারা কেমন উম্মত? কী কী যুক্তিততে আপনারা উনার (সা:) শাফায়াত আশা করেন? উনার (সা:) শাফায়াত ছাড়া কী জান্নাতে যেতে পারবেন? নিজকে নিজে একটু চিন্তা করুন?  তার চাইতেও খারাপ লাগে, যখন একজন লোককে বলি, ভাই চল মসজিদে যাব, নামাজ পড়বো; তখন এ লোক আমার সাথে তর্ক জুড়িয়ে দেয়; বলে, মসজিদে না গেলে কি নামাজ হবে না? অথবা মিছা-মিছি কিছু ওযরের কথা বলে তর্ক করে অথবা শুধু আমাকে বোঝানোর জন্য ছলনামূলক কথা বলে; যা আসলে জামাত তরকের বৈধ কোন ওযর নয় বা কোন মুমিন বা সহজ-সরল লোকের বৈশিষ্ট্য নয়। এর চাইতেও বেশি খারাপ লাগে যখন দেখি, পাশে এক ব্যক্তি ঘুমাচ্ছেন, অথচ তিনি নামাজ পড়ছেন; আর নিজকে পূণ্যবান বা নামাজী মনে করছেন। আরে ভাই ইসলাম আপনাকে নামাজ পড়ার জন্যতো বলেনি; আপনাকে বলেছে নামাজ কায়েম করতে। তাই নামাজ কায়েম করার বিপরীত আপনাদের যত এক্টিভিটিজ রয়েছে, এর সবই নামাজে অলসতার কবীরা গুনাহেরই পরিচয় বহন করবে এবং তাওবা না করলে অথবা মহান আল্লাহু তা’য়ালা মাফ না করলে, এ গুনাহের শাস্তিতেই আপনাদেরকে দগ্ধ হতে হবে। ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা নামাজ বিষয়ে যে ভিডিও দিবো বা লিখবো সেখানে এর প্রয়োজনীয় বিবরণ লিখবো বা বলবো। আশা করি সে পর্যন্ত সাথেই থাকবেন। এ বিষয়ে  হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, “ আজান শোনার পর কোন ওযর না থাকা সত্ত্বেও যে লোক নামাজের জামাতে শামিল হয় না, ঘরে বসে একাকী পড়ে, তার নামাজ নামাজের মত করে মঞ্জর হবে না। যেখানে ওযর বলতে ভয় ও রোগকে বুঝায়।–(আবু দাউদ, ইবনে হেব্বান ও ইবনে মাজা)। অতএব, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর মত (অর্থাৎ রুকু-সেজদা ঠিকমত করে) সময় মোতাবেক জামাতের সাথে নামাজ আদায় না করা একটি অনেক বড় এবং কঠিন ও ভয়ানক কবীরা গুনাহ্; কারণ এতে নামাজে অলসতার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়। যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি যোগ্য এ কবীরা গুনাহটি কুরআন ও হাদিস দ্বারা সু-স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত।

6. যাকাত প্রদান না করা: আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, “  ‍মুশরিকদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, যারা যাকাত দেয় না।”–(সূরা হা-মীম সিজদা: ৬৭)। লক্ষ্যকরুন, এখানে যারা যাকাত দেয় না, তাদেরকে মুশরিকদের সাথে, মানে বেঈমানদের সাথে তুলনা করা হয়েছে।  হযরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “সর্বপ্রথম তিন প্রকারের লোক জাহান্নামে যাবে, (১) সৈরচারী অর্থাৎ শক্তির বলে ক্ষমতা দখলকারী শাসক। (২) যাকাত অনাদায়কারী সম্পদশালী ব্যক্তি। এবং (৩) দাম্ভিক দরিদ্র।”–(ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হেব্বান)। আল কুরআন ও আল হাদিস দ্বারা এ কথা অকাট্যরুপে প্রমাণিত যে, হিসেব করে যাকাত প্রদান না করা  একটি অতি বড় শাস্তিযোগ্য কবীরা গুনাহ। আর গাণিতিক হিসেব করে যাকাত প্রদান না করলে অথবা মানুষকে দান করতে করতে নিজেই যাকাত খাওয়ার উপযুক্ত না হলে কখনোই আপনার যাকাত আদায় হবে না। তাই  উপরোক্ত ৫ ও ৬ নং কবীরা গুনাহে উল্লেখিত বিষয় দু’টি, আপনারা কোন ভালো আলেম, গ্রহণযোগ্য ইসলামী কিতাব এবং আমাদের এ ওয়েবসাইটের (bondhonfoundation.com ) সহযোগিতায় শিখে নিবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করে, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আপনারা সবাই সুখে থাকুন, সুন্দর থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।   (চলবে)

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এবং আমাদের ফেসবুক গ্রুপ bondhon foundation group এ লিখিত আকারে ও bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের। (মুহাম্মদ আরিফ উল্যাহ, এমডি, বন্ধন ফাউন্ডেশন)। যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ওয়েবসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমাদের এ সাইটটিতে ক্লিক করে (ক্রোম ব্রাউজারে অথবা গুগলে লিখে সার্চ করে) bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য [ 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com ]  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।] 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: