কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-৩, (সিরিজ-ইসলামের পরিচয়, প্রবন্ধ-৭)  (ধারাবাহিক)

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আজ বুধবার। ০৭ সফর ১৪৪৩ হিজরী, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রি. ও ৩১ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।

[লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

(পূর্ব প্রকাশের পর থেকে, সংক্ষেপে বর্ণনাকৃত)

৭। ওযর ছাড়া রমজানের রোজা ভঙ্গ করা

আল্লাহু তা’য়ালা বলেন, “ হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যাতে তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার। (সূরা আল বাকারা : ১৮৩, ১৮৪)

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, যে লোক ন্যায় সঙ্গত কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভেঙ্গে ফেলবে, এরপর সে সারা জীবন রোজা রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। (তিরমিযী, ইবনে মাজা, ইবনে খুযায়মা)

আবু উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, “একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে। তাদের গলাটি ফাড়া এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? বলা হলো, এরা ঐসব ব্যক্তি যারা বিনা উযরে রমজান মাসের রোজা ভঙ্গ করেছিলো” (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ)

রোজা ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। বৈধ ওযর (শারীরিক অক্ষমতা, মজলুম হওয়া, মাসআলার কিতাব দ্রষ্টব্য,) না থাকলে ধনী-গরীব সকল সাবালক [স্বপ্নদোষ আরম্ভ হওয়া (ছেলেদের ক্ষেত্রে) অথবা পিরিয়ডের রক্ত আরম্ভ হওয়া (মেয়েদের ক্ষেত্রে); এ দু’টির কোনটির প্রমাণ পাওয়া না গেলে, বিশেষ করে দূর্বল শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে (সতর্কতার সহিত সিদ্ধান্তে উপনিত হতে হবে); তবে চান্দ্র বছরের হিসাবে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়া (সৌর বছর নয়), ইহাকে একজন মানুষের সাবালক অবস্থা বলে] পূরুষ-নারীর উপর রোজার নিয়মাবলী অনুযায়ী ( মাসআলার কিতাব দ্রষ্টব্য; রোজার মাসআলা নিয়ে পরিপূর্ণ ভিডিও আমাদের এ চ্যানেল, পেজ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে; দেখার ও শিখার অনুরোধ রইলো; ভিডিও’র শুরুতে আমাদের মূল সাইট গুলির নাম প্রদর্শিত হয়েছে অথবা আমাদের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে খুঁজে নিতে পারবেন) রোজা রাখা অবশ্যই কর্তব্য বা ফরজ। আর এ আইন অমান্যকারীর উপর কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা প্রদানকৃত, যা কবীরা গুনাহ নামে আখ্যায়িত। আবার এ রোজাকে অস্বীকারকারী বা লংঘনকারী মুসলিম হিসেবে পারিবারিক বা বংশীয় সূত্রে পরিচয় দিলেও সে কাফের, তার ঈমান নেই (সম্মানিত মুফতিবৃন্দের অথবা ইসলামী সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত আদালতের ঘোষণা অনুযায়ী)।

অতএব, ইহা অকাট্যরুপে সত্য যে, ওযর বিহীন রমজানের কোন রোজা ভাঙ্গা অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিযোগ্য কবীরা গুনাহ্ সমূহের অন্যতম একটি কবীরা গুনাহ্।

৮। সামর্থবান হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ না করা

মহান আল্লাহু তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, “আল্লাহু তা’য়ালা মানুষের জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরজ করেছেন, যে সেথায় যাওয়ার সামর্থ রাখে।”-(সূরা আলে ইমরান: ৯৭)

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে হজ্জ সম্পাদনের প্রয়োজনীয় সওয়ার (পরিবহন খরচ বা সুবিধাদি) ও রসদ (খাওয়া-থাকার প্রয়োজনীয় খরচ) যার আছে (ঋণ ব্যতিত), সে যদি হজ্জ না করে [(কোন বৈধ ওজর যেমন কোন রোগ-ব্যাধি বা জালেম শাসক কতৃক বাধাগ্রস্থতা বা তিন মঞ্জিলের (ইংরেজী মাইলের হিসাবে ৪৮ মাইল) বাহিরের মহিলাদের ক্ষেত্রে সঙ্গে যাওয়ার জন্য স্বামী বা মাহরাম রেস্তাদার না থাকলে) এবং (যখন সামর্থ হয়েছে তখনই হজ্জ করা তার উপর ওয়াজিব; কারণ পরে গরীব হয়ে গেলেও, সে ফরজ তরকের গোনাহগার হবে। আবার বিনা কারণে, শুধু আলস্যতা হেতু দেরী করলে তাহলে ওয়াজিব তরকের গুনাহগার হবে; এ বিষয়ক বিস্তারিত বিধানাবলী মাসআলার কিতাবে দ্রষ্টব্য, কোন ভালো আলেমের সহযোগিতায় শিখে নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এছাড়া  আমরাও সময় হলে এ বিষয়ক প্রবন্ধ ও ভিডিও আমাদের এ প্ল্যাটফর্ম গুলোতে প্রকাশ করবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা)]; তবে সে ইহুদি কিংবা খৃস্টান হয়ে মরে মরুক, তাতে আল্লাহু তা’য়ালার কিছু যায় আসে না। (তিরমিযি, হাদিস ৮১২, তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৭৮)

হজ্জ ইসলামের ৫ম স্তম্ভ। যে ইসলামের এ মূল স্তম্ভকে অস্বীকার করবে বা মানতে রাজী না হবে সে অবশ্যই কাফের। এমনকি যে অবহেলা করেছে বা গুরত্বহীন থেকে হজ্জ না করে ইন্তেকাল করেছে, তার ঈমান নিয়ে ইন্তেকাল না করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। উপরের হাদিসটিই এর প্রমাণ। এছাড়া আরো অনেক হাদিস রয়েছে এ বিষয়ে। যাক ইসলামের একটি মূল বিষয়কে নিয়ে এর বেশি লিখার আমার মনে হয় কোন প্রয়োজন নাই। আর ঈমান নিয়ে ইন্তেকাল করতে না পারলে, কাফেরের শাস্তি কী হবে; তা সহজেই অনুমেয়। তাই সামর্থ হওয়ার সাথে সাথে হজ্জ্ব করা প্রত্যেক মুমেনের একান্তই কর্তব্য।

৯। আল্লাহু তা’য়ালার আইন অনুযায়ী শাসনকার্য ও বিচারকার্য পরিচালনা না করা অথবা আল্লাহু তা’য়ালার বিধানকে সত্য, সঠিক ও ন্যায়বোধ মনে না করে বা মানুষের প্রতি অমানবিক ও জুলুম মনে করে মানব রচিত আইনকে সমর্থন করা বা প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করা (আল্লাহু তা’য়ালার আইনের প্রতি এ ধরনের বিরুপ ও হীনকর ধারনা থাকলে, তাহলে ঈমান থাকবে না; আর ইহা জানার ও মেনে নেয়ার পরও তা না মানলে, তবে তা হবে যন্ত্রণাদায়ক  শাস্তিযোগ্য কবীরা গুনাহ) ।

আল্লাহু তা’য়ালার বিধান ( মানে কুরআন ও সুন্নাহ) অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনা করা সমস্ত মুসলমানের উপর ফরজে আইন। একতাবদ্ধ হয়ে যোগ্যতম ব্যক্তিকে (জ্ঞান, ঈমান ও আমলের দিক থেকে) আমির বা রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান নিযুক্ত করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ এবং তার তাবেদারী করা বা তার অনুগত হয়ে রাষ্ট্রের আইন বা নিয়ম-কানুন মেনে চলা প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব। এ বিষয়ে মহান আল্লাহু তা’য়ালা কী বলছেন তা পড়ুন ও শুনুন। আল্লাহু তা’য়ালা বলেন, যে আল্লাহু তা’য়ালার আইন অনুযায়ী শাসন কার্য (বা বিচার কার্য) পরিচালনা করে না, সে কাফের/ জালেম/ ফাসেক (সূরা মায়েদা: ৪৪, ৪৫, ৪৭)।

হযরত মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা:) ও হযরত উমর (রা:) নিজে ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক হওয়ার মাধ্যমে এবং তখনকার জনগণ এতে সমর্থন দেয়ার ও মেনে নেয়ার মাধ্যমে এ ফরজ পালন করেছিলেন। আর সেটিই ছিলো ইসলামের প্রকৃত বা মূল বৈশিষ্ট্য। তাই সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশে আল্লাহু তা’য়ালার আইনের বাহিরে মানব রচিত আইন দ্বারা রাজ্য শাসন এবং এতে সমর্থন দেয়ার কোন অনুমতি ইসলামে নেই। তবে অনৈসলামিক বা অমুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার কারণে শাসন বা বিচার কার্য কুরআন-হাদিস অনুযায়ী করতে না পারলে (তখন ঐ অমুসলিম বা অনৈসলামিক সরকারের আইন মোতাবেকই রাষ্ট্র ও জনগণ সবাইকে মেনে চলতে হবে), তাহলে তওবা-এস্তেগফার করবে এবং কিভাবে ইসলামী রাষ্ট্রে বাস করা যায়, সে চেষ্টা ও বৈধ তদবীর করতে হবে এবং প্রয়োজনে হিজরত করতে হবে ও মনে রাখতে হবে এ বিষয়ে হিজরত করা সুন্নাত।

অতএব, আমরা যারা আল্লাহু তা’য়ালার আইন অনুযায়ী বিচার ও শাসন কার্য পরিচালনা করতে পারি না বা পারছি না, তাদের একবার ভাবা উচিত, রবের নির্দেশ বা ইসলামের হুকুম কী, আর আমরা পালন করছি কী এবং কেন এভাবে বিপরীত আমল করছি। আর এর পরিণতিই বা কী হতে পারে? ইহা কী সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহকে অপমাণ বা লংঘন নয়? একটু চিন্তা-ভাবনা করি যে, ইসলামী আইন বাস্তবায়নে, ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়নে বা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে ও নিজ জীবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিচার-আচারে ইসলামী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা বা আমাদের অংশগ্রহণ কী বা কেমন ছিলো। এতে আপনার আমার প্রাণ কি কেঁদে ছিলো? ছিলো কি কোন ব্যাথা বা আকুতি (!) ইসলাম অনুযায়ী শাসন বা বিচার কার্য পরিচালনার? না শুধু তাসবীহ হাতেই জপেছি অন্ত:স্বারশূন্য ইবাদত? দেখুন এ বিষয়ে বেশি দূরে যেতে হবে না, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ ধরনের একটি কথা বলেছেন যে, রাসূলের (সা:) অপমাণে যদি কাঁদে না তোমার মন; মুসলিম নয়, মুনাফিক তুই রাসূলের (সা:) দূষমণ। আর আমাদের বিভিন্ন মূখী অনৈসলামিক এক্টিভিটিজে রাসূল (সা:) অপমাণিত হবেন ইহা স্বাভাবিক।

  তাহলে আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান কোথায়, আমরা কি তাহলে মুনাফিক!? আমরা কি তাহলে রাসূলের (সা:) দূষমণ!? নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা আমাদেরকে হেদায়েত দিন ও হেফাজত করুন। আমরাওতো বিভিন্ন অনৈসলামিক ও পাপের কার্য করি এবং কুরআন ও সুন্নাহ’র বিপরীত বিভিন্ন অবস্থা অবলোকন করি; কই আমাদের প্রাণেতো কোন ব্যাথা অনুভব হয় না! এতে রাসূল (সা:) কি খুশি হন! এ বিষয়ে আমাদের সকলকে চিন্তা-ভাবনা আর গবেষণা করতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সিদ্ধান্তে উপনিত হতে অনুরোধ করছি যে, আমাদের কী করা উচিত, আর কী করা উচিত নয়। যেহেতু আমাদের রব আল্লাহ্ এবং আমরা তাঁরই গোলাম ও আমরা সকলে মুসলিম সম্প্রদায়েরই দাবীদার।

অপরদিকে এ বিষয়ে আরো মেনে চলতে অনুরোধ করছি যে, দেখুন প্রত্যেক কাজ (ভালো কাজ হোক বা মন্দ কাজ হোক) সম্পাদন ও এর ফলাফল; সংশ্লিষ্ট ঐ কাজ সম্পাদনকারীর নিয়তের উপর নির্ভর করে। আর তাই বাহ্যত কেউ বা কোন বিচারক বা কোন শাসক আল্লাহু তা’য়ালার আইনকে বাদ দিয়ে নিজের মন মতো বা প্রশাসকের আইন মোতাবেক বা প্রচলিত সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী বিচার বা শাসন কার্য পরিচালনা করে ও সে মোতাবেক বিচারের রায় দিয়ে বা প্রচলিত ও আদিষ্ট বা বাধ্যগত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান করে বা বাস্তবায়ন করে; তবে ঐ শাসক বা বিচারককে বা প্রজাতন্ত্রের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে বিরুপ মন্তব্য করার ও ফিতনা বাধানোর কোন সুযোগ বা কোন কারণ আমাদের নেই (বা ব্যক্তিগত ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের ক্ষেত্রেও)। কারণ তার নিয়ত কী ছিলো আমরা তা জানতে পারি না। তার নিয়তে কি তার কাজের জন্য অনুশোসনা ছিলো? তিনি কি মানসিক ভাবে তার দ্বারা সম্পাদিত এ কাজটিকে মেনে নিয়েছেন (?), না যে কোন বাধা, ভয় বা বিরুপ প্রেসারে পড়ে বা বাধ্য হয়ে অথবা শুধুই প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে অন্তরে ব্যাথা সহ তিনি এ কাজটি করছেন? হয়তোবা করছেন বা মনে-প্রাণে তার কাজটি তিনি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তার মনের খবর আপনি-আমি কি করে জানবো? তাই অযথা তাকে কাফের বা তার ঈমান নেই বা ঈমান চলে গেছে এ জাতীয় ভয়ঙ্কর তোহমত গুলো বা যে কোন নেতীবাচক ধারনা করা ও তার বিরুদ্ধে এগুলো প্রকাশ করা; আমরা তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবহার করতে পারি না। কারণ বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে কোন তথ্য-প্রমাণ আমাদের কারো হাতে থাকার কোন সুযোগ নেই। আর এ বিষয়টি এমনিতেই খুবই স্পর্শকাতর। সে সাথে আমি আরো বলতে চাই যে, একটি দেশের বা যে কোন প্রশাসনের বা যে কোন বিচারিক কার্যালয়ের  অনৈসলামিক শাসন ও বিচারের দায়ভার যে শুধু সংশ্লিষ্ট ঐ শাসক বা বিচারক বহন করবে তা কিন্তু না। কারণ বিচার ও বিচারর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির প্রায় সবগুলিই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়। এখানে প্রত্যক্ষ ভাবে প্রশাসক বা বিচারক দায়ী হলেও পরোক্ষ ভাবে এ সংশ্লিষ্ট সকল জনগনই দায়ী (যদি এ বিষয়ে তাদের কোন মর্ম বেদনা না থাকে)। এ বিষয়ে আমেরিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের বাণীটি আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তিনি বলেছেন, জনগনের দ্বারা সরকার, জনগনের প্রয়োজনে সরকার। তার মানে   জনগনই সরকার। সিমিলার কথা কিন্তু হাদিস শরীফেও রয়েছে যে, একটি দেশের জনগণ যদি অনৈতিকতা, অশ্লীলতা আর জুলুমে পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন জালেম সরকার তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। তাই ইহা সুস্পষ্ট যে, ইসলাম অনুযায়ী বিচার ও শাসন না পাওয়ার পিছনে মূল ও প্রথম কারণ আমাদের নিজেদেরই বদআমল আর দূ:চ্চরিত্রতা। এ বিষয়ে আমার সাথে তর্ক না করে বলুন-

কে নিষেধ করেছে আপনাকে-আমাকে নামাজ না পড়তে বা জামাতে নামাজ না পড়তে বা প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞান অর্জন না করতে? কে নিষেধ করেছে আপনাকে-আমাকে হকদার বা পাওনাদারের হক ঠিকমতো না দিতে? কে বলেছে রাতভর বিভিন্ন অপকর্ম করতে? ইত্যাদি, ইত্যাদি। সরকার বা যে কোন পক্ষীয় শক্তি কি বাধ্য করেছিলো এ গুলো করতে?  আমি-আপনি নিজেরাইতো হলাম শয়তানের আখড়া। তাহলে আমাদের সরকার, শাসক আর বিচারক হবে কেমন (?), আপনি চিন্তা করুন একটু? কে তৈরী করবে (?), আর কে এবং কোথা থেকে নিযুক্ত করবে এসব ইসলামিক শাসক আর বিচারক? আকাশ থেকে নিযুক্ত হবে? না এ ধরার ধরিত্রী থেকে  আকাশের কোন ফেরেশতা, না আমরা নিযুক্ত করবো, আমাদের থেকে? যাক, আমি বিষয়টি নিয়ে এতো গবেষণা করতে ইহা আলোচনা করিনি, আমি শুধু এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী, তা বলতে গিয়ে বিষয়টির আলোকপাত করেছি। কারণ, আমার আজকের বিষয় হচ্ছে কবীরা গুনাহ সমূহ ধারাবাহিক ভাবে বিবৃত করা। তবুও এ বিষয়ে আমার পরামর্শ হলো, প্রথমে প্রত্যেকে নিজকে নিজে খাঁটি ঈমান ও আমল ওয়ালা হতে চেষ্টা করুন। নামাজকে শুধু দায়সারা ভাবে আদায় না করে; সমাজে নামাজকে প্রতিষ্ঠা করুন। সাধ্যমত সৎ কাজে আদেশ দিন, সহযোগিতা করুন; আর অসৎ কাজে বাধা দিন। সমাজে যারা অপরের হক মেরে খায়, এসব জালেম থেকে মজলুমের হক আদায়ে প্রকাশ্যে ও জোরালো ভাবে প্রদক্ষেপ নিন।

আর এভাবে যদি আমাদের গ্রাম, গঞ্জ, শহর, বন্দর ও নগরের; তথা দেশের সকল মুমিন বান্দা খাঁটি মুসলমান হতে পারি; অন্ততপক্ষে সিংহ ভাগও যদি এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে পারি; তাহলে আমাদের শাসক, আমাদের বিচারক ইসলামী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে এবং আমাদের শাসন ও বিচার কার্য চলবে ইসলাম অনুযায়ী, ইহা স্বাভাবিক ও সহজেই অনুমেয়। নিজে জাগ্রত না হয়ে কখনো দেশকে বা জাতিকে জাগ্রত করা যাবে না। আর আমি শুধু আপনাদেরকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিলাম এবং আপনাদের কাউকে উগ্রতা বা আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে মোড়লি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে আমি বলিনি। সে সাথে সরকার বা প্রশাসনের কথা অমান্য করতেও আমি বলিনি। দেখুন দেশে আইন রয়েছে; সমাজে রীতি-নীতি রয়েছে; কখনোই এর বিপরীতে কিছু করতে যাবেন না। অতএব আপনাদের কারো যদি এ বিষয়ে কোন মাসআলা বা ইসলামী আইনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য মুফতিবৃন্দ থেকে এর সমাধান নিয়ে আসার অনুরোধ করছি। কেবলমাত্র তাঁরাই ইসলামের বা আপনার জীবনের বা সমাজ বা রাষ্ট্রের যে কোন সমস্যার ইসলামী সমাধানের বা ফতোয়া প্রদানের বৈধ ও ন্যায্য হকদ্বার। আর কেউ নয়। আমি শুধু বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলাম। দয়া করে আমাকে কেউ ভূল বুঝবেন না।

আজকে এ পর্যন্ত । কারণ এক প্রবন্ধ বা এক ভিডিওতে এর বেশি লিখতে বা বলতে গেলে আপনাদের ধৈর্য্যচুতি ঘটতে পারে। ভিডিও বা প্রবন্ধটি যদি ভালো লাগে তাহলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ bondhon foundation education এ নামটি ফেসবুক এবং ইউটিউবে এভাবে ইংরেজীতে লিখে সার্চ দিবেন এবং এটি ওপেন হলে সাবস্ক্রাইব, লাইক, ফলো ও শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকবেন এবং সে সাথে ফেসবুকে bondhon foundation group লিখে সার্চ দিয়ে এ গ্রুপের সাথে জয়েন্ট হবেন ও আমাদের ওয়েব সাইট bondhonfoundation.com

এ নিয়মিত ভিজিট করবেন। কারণ আমাদের মূল সাইট গুলো ব্যতিত অন্যান্য ফেসবুক গ্রুপ গুলোতে এখন যেভাবে আমাদের লিখা ও ভিডিও গুলো শেয়ার করে আসছি, ভবিষ্যতে আরো ব্যস্ত হয়ে গেলে তখন এভাবে আর পারি কিনা, সে বিষয়ে নিজেই ভয় করছি। তাই আপনাদের সবাইকে আমাদের মূল সাইটগুলোতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ইসলাম শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারে সহযোগিতার স্বার্থে আপনাদের সকলের প্রতি এ অনুরোধ রাখলাম। সবাই সুস্থ থাকেন, সুন্দর থাকেন। আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনায় আজকে এ পর্যন্ত। আল্লাহ হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

(চলবে)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: