কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-1

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।আজ বুধবার। 8 মুহাররম 1443 হিজরী, 18 আগস্ট 2021 খ্রি. ও 3 ভাদ্র 1428 বঙ্গাব্দ। 

আজকের বিষয়: কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-1 

[লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

(ধারাবাহিক) ‘ইসলামের পরিচয়’ এ সিরিজের লিখা হিসেবে ইতিপূর্বে লিখেছিলাম ঈমান ও ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, এ বিষয়ে। এখন লিখবো ঈমান আনয়নের পর এবং ঈমানের 77টি শাখায় আমল করার পর যে গুনাহ সমূহ নিজের জীবন থেকে বাদ না দিলে কখনোই কোন মানুষ খাঁটি মুসলমান হতে পারবে না, সে বিষয়ে। আমি সকলকে অনুরোধ করবো, আমার প্রবন্ধ ও ভিডিও গুলোর সাথে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত থাকতে। কারণ এত সহজ ভাষায় ইসলামের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাবেশ আর কোথাও হয়ত পাবেন না। অথচ এ বিষয় গুলো সকল মুসলিম নর-নারীর জানা থাকা একান্ত আবশ্যক  (তাই এ বিষয়ক পূর্বোক্ত প্রবন্ধ ও ভিডিও সমূহ উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে পড়ার ও দেখার অনুরোধ রইলো) এক্ষণে আসুন প্রথমেই জেনে নেয়া যাক, কবীরা গুনাহ কাকে বলে ও এর শ্রেণী বিভাগ কী? 

কবীরা গুনাহ ও এর প্রকারভেদ: যে সব কথা, কাজ, ব্যবহার, ইশারা-ইঙ্গিত ও সমর্থন এর বিষয়ে মহান আল্লাহু তা’য়ালা নিজে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন (স্বয়ং) ও আল হাদিসের মাধ্যমে [তথা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর মাধ্যমে] নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং গুনাহের তারতম্য বা অবস্থা অনুযায়ী যে গুলো করলে কঠিন শাস্তির ঘোষণা প্রদান করেছেন, এগুলোকে কবীরা গুনাহ বলে। সিহাহ্ সিত্তার বিভিন্ন হাদিস শরীফের মাধ্যমে এর প্রকার ভেদ সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) এর মতে কবীরা গুনাহ প্রায় সাতশ’টি। তবে ইন্তেকালের মুহূর্তে আজরাইলি ছকরাত আরম্ভ হওয়ার আগ পর্যন্ত, তওবার মতো তওবা করলে মহান প্রভূ তাঁর বান্দার যে কোন গুনাহ মাফির খোশখবরী দিয়েছেন। আবার বান্দা যতক্ষণ এ গুনাহ সমূহকে গুনাহ হিসেবে স্বীকার ও বিশ্বাস করবে এবং এ বিষয়ে বিনয়ী থাকবে ততক্ষণ এ গুনাহ সমূহ হয়ে গেলেও তার ঈমান ঠিক থাকবে; যদিও কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে। তবে যখনই সে এ গুনাহ সমুহকে অস্বীকার করবে এবং গুনাহ হিসেবে মেনেই নেবে না, তখন তার আর ঈমান থাকবে না। এ অবস্থায় তার যখনই হুশ আসবে বা তিনি যখনই বুঝতে শিখবে, তৎক্ষণাত তওবা, এস্তেগফার করে কালিমা শরীফ পড়ে ঈমান দোহরাইতে হবে। নিম্নে আমি সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় এবং বাংলায় এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় সহ কবীরা গুনাহ সমূহের প্রকার ভেদ ও গুনাহের গভীরতা সহ এর প্রতিফল তুলে ধরলাম। যাতে বাংলা ভাষা-ভাষি সাধারণ মানুষগণ জীবন চলার মতো মোটামুটি একটি জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। তবে আমার অনুরোধ থাকবে আল কোরআন , আল হাদিস  ও গ্রহণযোগ্য ফেকহার কিতাব থেকে কোন ভালো আলেমের সাহায্যে এ বিষয়ে সম্যক বা জীবন পরিচালনা করার মতো পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে নেয়ার জন্য। অন্য দিকে আমার লিখায় বা ভিডিওতে যদি কোন স্থানে না বোঝেন, তবে আমাকে কমেন্টস করবেন অথবা আপনার আশে-পাশে অবস্থিত আলেম সমাজের সরণাপন্ন হবেন। চলুন, আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি কবীরা গুনাহ সম্পর্কে। আশা করি সকলেই এ সম্পর্কিত আমার লিখা প্রবন্ধ সমূহ পড়বেন, ভিডিও সমূহ দেখবেন এবং মেনে চলবেন। আর ভালো লাগলে তাহলে আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন, ফেসবুক পেজটি লাইক ও ফলো করবেন  এবং ভিডিও গুলি লাইক ও শেয়ার করে আমাকে অনুপ্রেরণা প্রদান করবেন ও আমাদের ফেসবুক গ্রুপ bondhon foundation group এ গ্রপের সদস্য হবেন এবং নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com  ভিজিট করবেন।

1. শিরক বা আল্লাহু তা’য়লার সাথে অংশী সাব্যস্ত করা: কবীরা গুনাহ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম হচ্ছে আল্লাহু তা’য়ালার সাথে শিরক বা অংশী সাব্যস্ত করা। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহু তা’য়ালা তাঁর সাথে (অপর) কাউকে অংশী সাব্যস্ত করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না (সূরা আন নিসা: 48)। অর্থাৎ জীবদ্দশায় তাওবা করে সংশোধিত হয়ে ইন্তেকাল না করলে, তবে মুমেনদের জন্য অন্যান্য যে কোন গুনাহ মহান রাব্বুল আলামিন নিজ গুনে ক্ষমা করে দিতে পারেন বা ক্ষমা করবেন, কিন্তু শিরিকের গুনাহ কখনোই মাফ করবেন না।

শিরক দু’প্রকার। যথা- ক) আকিদা বা বিশ্বাসগত শিরক। অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা ছাড়া তাঁরই সৃষ্ট অপর কিছুকে আল্লাহু তা’য়ালার সমতুল্য মনে করা এবং আল্লাহু তা’য়ালার অনুরুপ তারও উপাসনা করা। যেমন পাথর, বৃক্ষলতা, চন্দ্র, সূর্য, ফেরেশতা, নবী, ওলী, গ্রহ-নক্ষত্র, জ্বিন, দেবতা প্রভৃতি যাই হোক না কেন, তাকে আল্লাহু তা’য়ালার সমতুল্য ধারনা করা এবং তার পূজা-উপাসনা করা। এছাড়া আল্লাহু তা’য়ালার যে কোন গুণে অন্য যে কাউকে তাঁর সমতুল্য মনে করা। অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা এ কাজটি করেন, আবার এ লোকটিও বা এ দেবতাটিও বা এ সৃষ্ট পদার্থটিও এ কাজটি করেন বা করতে পারেন, এ ধরনের মনোভাব রাখা, এটিও শিরক। যেমন বাবার দরবারে গিয়ে অথবা কবরস্থ কোন ওলীর নিকট অনেকেই সন্তান চায়, সেজদা দেয় বা সন্তানের কান ফোঁড়িয়ে দিলে সে আর মরবে না , এ জাতীয় বিশ্বাস করে; যা কোরআন-হাদিসের কোথাও মহান রব বলেন নি। অথবা খাওয়ার-দাওয়ারই মানূষকে বাঁচিয়ে রাখে, মেঘ থেকেই বা মেঘ ধরলেই বৃষ্টি হয়; যেখানে মহান আল্লাহু তা’য়ালার কোন ভূমিকা নেই এবং এগুলো মহান আল্লাহু তা’য়ালা করেন না।  ইত্যাদি, ইত্যাদি।

খ) রিয়া বা লোক দেখানোর জন্য নেক আমল করা। হাদিসে ইহাকে ছোট শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মসজিদে না গেলে, কুরবানী না দিলে, হজ্জ না করলে, রোজা না রাখলে, যাকাত না দিলে মানুষের কাছে, সমাজের কাছে আমি অসাম্মানিত হয়ে যাবো, আমার সম্মান থাকবে না বা বাড়বে না, লোকে আমাকে ভালো লোক বলবে না ইত্যাদি আশায় মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নেক আমল করা। এছাড়া লোকের নিকট সম্মানের ভয়ে কোন নেক কাজ বর্জন করা; যেমন লোকে কী বলবে, লোকে পাগল বলবে, বুজর্গ বলবে ইত্যাদি কারণে কোন ভালো কাজ বর্জন করাও শ্রেণী ভেদে রিয়া বা গুপ্‌ত শিরিকের অন্তর্ভূক্ত।

2. কোন কুফরী কথা বলা বা কোন কূফরী কাজ করা বা এসবের প্রতি বিশ্বাস থাকা।

 এ কথা বা কাজগুলো ঈমানের বিপরীত। যেগুলি বললে বা যে কাজগুলি করলে ঈমান থাকে না। বরং তওবা না করলে সে কাফের হয়ে যায়। যেমন-

1) ইসলামের পর্দার বিধান, ফরজ গোসল, ফরায়েজ, যাকাতের বিধান, ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে যদি কেউ ইসলামের নিন্দা করে এবং বলে যে বা মনে মনে পোষণ করে যে, ইসলামের চাইতে হিন্দু ধর্ম বা বোদ্ধ ধর্ম অনেক ভালো এবং এসব ধর্মের প্রশংসা করে (নাউজুবিল্লাহ)

2) মুসলমান হওয়ার পর আক্ষেপ করা যে, হায়! যদি মুসলমান না হতাম, তবে এ রকম উন্নতি লাভ করতে পারতাম বা এ রকম সম্মান পেতাম (নাউজুবিল্লাহে মিন যালিক)।

3) সন্তান বা  অন্যকোন প্রিয়জনের মৃত্যূশোকে এ রকম কথা বলা যে, আল্লাহু তা’য়ালা মারার জন্য আর কাউকে পায় নাই, ইহাকেই পেয়েছিলো। এর জীবন নেয়াটাই আল্লাহু তা’য়ালার মাকছুদ ছিলো। আল্লাহু তা’য়ালার এ রকম করা ভালো হয় নাই বা উচিৎ ছিলো না, এ রকম ঝুলুম কেহ করে না ইত্যাদি।

4) আল্লাহু তা’য়ালার প্রতি বা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর প্রতি বা ইসলামের কোন হুকুমের প্রতি মন্দ জানা বা তাতে কোন প্রকার দোষ বের করা।

5) ইসলামের কোন ফরজ হুকুমকে অস্বীকার করা যে, ইহা আমি জীবনেও মান্য করবো না। কারণ, ইহা ফরজ হতে পারে না। ফরজ হিসেবে এ কথা বা কর্মকে আমি মানি না।

6) কোন নবী বা ফেরেশতার উপর কোনরুপ দোষারোপ করা। কোন নবী বা ফেরেশতাকে ঘৃণা বা তুচ্ছ মনে করা।

7) কোন নবী-রাসূল বা ওলী-আল্লাহ বা পীর-বুজর্গ সম্ভন্ধে বিশ্বাস রাখা যে, নিশ্চয় তিনি সব সময় আমাদের সকল অবস্থা জানেন।

8) গণক কিংবা যার উপর জ্বীনের আছর হয়েছে, তার নিকট গায়েবের কথা জিজ্ঞাসা করা বা হাত ইত্যাদি দেখিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করানো এবং এতে বিশ্বাস করা (ভবিষ্যতের বিষয়ে গণকের কথা অনুযায়ী দৃঢ় বিশ্বাস করা)। মনে রাখতে হবে, গায়েবের খবর (কুরআন ও হাদিসে যে সব গায়েবের খবর দেয়া হয়নি) একমাত্র আল্লাহু তা’য়ালা ব্যতিত কোন নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম (রা:), পীর-বুজর্গ, ফেরেশতা বা জ্বীন জাতি কেহই জানে না; এ কথায় বিশ্বাস না করলে আপনার ঈমান থাকবে না। এছাড়া কোন বিজ্ঞানীও যদি বলে অমুক দিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বা অমুক দিন বৃষ্টি হবে বা হবে না বা খরা হবে। এ জাতীয় কথায় দৃঢ় বিশ্বাস করাও কূফরী। যা ঈমানের পরিপন্থী। তবে মেঘ দেখলে যেমন সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, শ্রেণীভেদে বিজ্ঞানীদের কথায় বা আবহাওয়া বার্তায় সতর্কতা অবলম্বন করা যাবে, কিন্তু পুরোপুরি বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না।

9) কোন জীবিত বা মৃত পীর-বুজর্গ বা নবী-রাসূল (আ:) কাকেও দূর হতে ডেকে মনে করা যে, তিনি আমার ডাক শুনেছেন বা তিনি অন্য জীব বা জড়ের মাধ্যমে বা নিরাকার ভাবে বাতাসের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসছেন এবং আমাদের সাথে আছেন।

10) আল্লাহু তা’য়ালা যেমন সর্বত্র বিরাজমান, সকল কিছু দেখেন শুনেন; তেমনি অন্য কোন নবী-রাসূল বা হযরত মুহাম্মদকে (সা:) সর্বত্র বিরাজমান মনে করা।

11) কোন পীর-বুজর্গ বা অন্য কাকেও লাভ-লোকসানের অধিকারী মনে করা। অর্থাৎ আপনাকে তিনি তার থেকে লাভ করিয়ে দিতে পারেন অথবা লোকসানে নিপতিত করতে পারেন ; মনে মনে এ জাতীয় বিশ্বাস স্থাপন করা।

12) আল্লাহু তা’য়ালা ব্যতীত অন্য কারো নিকট নিজের মকছুদ, টাকা-পয়সা, ধন-সম্পত্তি, রুজি-রোজগার, সন্তান ইত্যাদি চাওয়া (বিশেষ করে মাজারে বা পীর বুজর্গের কাছে গিয়ে অনেক মূর্খ লোককে এভাবে চাইতে দেখা যায়)।

13) কাকেও সেজদা করা। কারো নামে রোজা রাখা বা ইবাদতের নিয়তে কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নামে গরু ইত্যাদি ছেড়ে দেয়া বা দরগায়ে ঐ মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে মান্নত মানা।

14) কোন কবর বা দরগাহ বা পীর -বুজর্গের ঘরের তাওয়াফ করা (অর্থাৎ ইবাদতের নিয়তে চতুর্দিকে ঘোরা)।

15) আল্লাহু তা’য়ালার হুকুম বা বিধানকে নিকৃষ্ট বা অসুম্পূর্ণ বা বা মানুষের জন্য ক্ষতিকর বা অনুপকারি মনে করে অন্য কারো হুকুমকে বা কোন রাজনৈতিক দলের মানব রচিত বিধানকে বা কোন দেশ-রেওয়াজ বা সামাজিক প্রথাকে বা নিজের কোন পুরাতন অভ্যাসকে বা বাপ-দাদার কালের কোন দস্তরকে উৎকৃষ্ট মনে করে পছন্দ বা অবলম্বন করা।

16) কারো সামনে সম্মানের জন্য (সালাম ইত্যাদি করার সময়) মাথা নোয়ান। আমাদের দেশে বিশেষ করে মহিলাগণ বা নব বধু বা নব বর কদমবুচি করার সময় যেভাবে মাথা নোয়ায়, ইহা একটি রুসূম। এ রুসূমের কথা এখানে লিখা হয়নি। তবে ইহাও হিন্দুয়ানি প্রথা এবং ইহাও নিন্দনীয় ও পরিত্যার্য। আবার যদি সত্যি সত্যি সম্মানার্থে মাথা নোয়ায়, তাহলে ইহাও অবশ্যই ঈমানের বিপরীত।

17) কারো নামে কোন জানোয়ার যবেহ্ করা এবং উপরি দৃষ্টি ছাড়াইবার জন্য তাদেরকে ভেট  (নযরানা) দেয়া।

18) কারো নামে ছেলে-মেয়েদের নাক-কান ছিদ্র করা ও বালি, বোলাক ইত্যাদি পরানো বা কারো নামে বাজুতে পয়সা বা গলায় সুতা বাঁধা এবং এ বিশ্বাস রাখা যে, শিশু বয়সে এ ছেলে/ এ মেয়ে আর মরবে না।

19) পৃথিবীতে যা কিছু হয়, নক্ষত্রের তাছিরে হয়; আল্লাহু তা’য়ালার হুকুমে নয়, ইহা বিশ্বাস করা।

20) ভবিষ্যত সংক্রান্ত কোন অনুমান বা লক্ষণ বা গবেষণাকে  সত্য মনে করা যে, আগামীকাল বৃষ্টি হবে বা আগামী মাসে প্রচন্ড তাপদাহ হবে বা এ মাসে কোন বৃষ্টি হবে না বা আগামী মাসের কোন একদিন বা সহসা বা অচিরেই অমুক গ্রহের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ইত্যাদি।

21) হযরত মুহাম্মদকে (সা:) শেষ নবী হিসেবে না মানা।

22) নবী-রাসূলগণকে (আ:) বে-গুণাহ ও নিষ্পাপ হিসেবে এবং সত্যের মাপকাঠি হিসেবে না মানা।

23) এ কথায় বিশ্বাস করা যে, ইসলামের নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা:) মানুষ নয়; তিনি নূরের তৈরী মানুষ রুপি অন্য কিছু।

24) এ কথা বলা যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) কামুক (নাউজুবিল্লাহ!)। তা না হলে তিনি এত বিয়ে কেন করেছেন (আসতাগফিরুল্লাহ!)।

25) কোরআন ও হাদিছ দ্বারা প্রমাণিত এবং ইসলামে স্বীকৃত নির্দিষ্টকৃত কোন হালালকে জেনে-বুঝে ইচ্ছাপূর্বক এবং মনগড়া ভাবে হারাম জানা বা কোন পাক জিনিসকে ইচ্ছাপূর্বক নাপাক জানা অথবা একই ভাবে কোন হারামকে হালাল জানা বা কোন নাপাক বিষয়কে পাক জানা অথবা হালাল, হারাম, পাক, নাপাক এগুলোকে যার যার স্থানে শুধুমাত্র নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী মানতে অস্বীকার করা। ( এ বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষা বা এ জাতীয় বই থেকে কোন ভালো আলেমের তত্ত্বাবধানে থেকে শিখে নিতে হবে এবং আমি নিজেও পরবর্তীতে এ বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো ও ভিডিও আপলোড করবো। আশা করি সে পর্যন্ত আমার সাথেই থাকবেন)

26) ইহা বিশ্বাস করা যে, মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটছে বা ঘটবে অর্থাৎ ভালো-মন্দ, উন্নতি-অবনতি, সুস্থতা-অসুস্থতা  ইত্যাদি সবই মানুষের এখতিয়ার বা ইচ্ছা বা চেষ্টা বা অংশগ্রহণ ব্যতিতই মহান আল্লাহু তা’য়ালা সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ এখানে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই এ ধরনের বিশ্বাস রাখা। অথবা ইহা বিশ্বাস করা যে, মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটছে বা ঘটবে, তার সব কিছু শুধু মানুষেরই চেষ্টায় অর্জিত বা যে কেউ ইচ্ছা ও চেষ্টা করলেই সে নির্দিষ্ট কর্মফল পাবে। অর্থাৎ মানুষই তার আপন ভাগ্যের নির্মাতা। আল্লাহু তা’য়ালার এতে কিছু করার নেই। এ রকম বিশ্বাস রাখা। মনে রাখতে হবে এ দু’দলের কারোরই ইসলামে কোন অংশ নেই। বস্তুত, মানুষ আল্লাহু তা’য়ালার তাওফিকে এবং তাঁরই শক্তিতে ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে এবং ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন একটি কাজ সম্পন্ন করতে চেষ্টা-সাধনা করতে পারে। আর আল্লাহু তা’য়ালা মানুষ দ্বারাই তা সমাধা করেন  এবং মানুষের নিয়ত অনুযায়ী এর কর্মফল প্রদান করেন। তবে কে চেষ্টা করবেন, আর কে চেষ্টা- সাধনা করবেন না, তা মহান রব মানুষের জন্মের অনেক আগ থেকেই জানেন, যেমনটি ঠুনকো যুক্তি হলেও শুধু বোঝার সুবিধার্থে বলছি, যেমন একজন টিচার তার ছাত্র সম্ভন্ধে ছাত্রের পরীক্ষার অনেক পূর্ব থেকেই একটা ধারনা রাখতে পারেন  (আর মহান আল্লাহু তা’য়ালাতো আলেমুল গায়েব ও সর্ব জ্ঞানের আধার) এবং সেভাবেই মানুষের ভাগ্যলিপি লিপিবদ্ধ থাকে , যার পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ চেষ্টা-তদবীর-সাধনা দ্বারা মানুষ কতটুকু উন্নতি করবেন বা করতে পারবেন, তা মহান রব পূর্ব থেকেই জানেন। আর এভাবেই মানুষের ভাগ্যলিপি নির্দিষ্ট। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে পৃথিবী ধ্বংস এবং এর পর বেশেত-দোযখ ইত্যাদি সকল প্রাণ ও জড়ের সকল একটিভিটিজ এর যাবতীয় জ্ঞান মহান রবের পূর্ব থেকেই জানা। এ রকম আকিদা-বিশ্বাস প্রত্যেক মুসলমানের থাকতে হবে। আর এর বিপরীত বিশ্বাসীদের ঈমান থাকবে না। (চলবে)

[বেহেশতি জেওর, বাই আল্লামা থানবী (র:) ও কবীরা গুনাহ, বাই ঈমাম আযযাহাবী (র:) এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য ইসলামী কিতাব অবলম্বনে প্রবন্ধটি লিখা হয়েছে)

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এবং আমাদের ফেসবুক গ্রুপ bondhon foundation group এ লিখিত আকারে ও bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ওয়েবসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমাদের এ সাইটটিতে ক্লিক করে (ক্রোম ব্রাউজারে অথবা গুগলে লিখে সার্চ করে) bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য [ 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com ]  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: