যৌতুকের কূফল এবং এ থেকে মুক্তির আবেদন ও মুনাজাত

5 জুলাই 2021খ্রি. 23 জ্বিলকদ 1442হিজরী 21 আষাঢ় 1428 বঙ্গাব্দ

প্রতি,

সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহু তা’য়ালা।

মাধ্যম: প্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:) এঁর সুন্নাহ। অর্থাৎ আমার জানা অনুযায়ী আমি আমার জীবন  ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা রাসূল (সা:) এর সুন্নাত অনুযায়ী পরিচালনা করবো এবং এভাবেই আমল করতে চেষ্টা করছি ও মুখে পড়ছি ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। তাই তাঁর উছিলায় আমার চাহয়া-পাওয়ার এ আবেদন টুকু কবুল করার জন্য বিনীত আবেদন। [এভাবে মহান রবের কাছ থেকে কোন কিছু চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে লিখিত দরখাস্ত অত্যাবশ্যক নয়। তবে মালিক এবং তাঁর গোলামের (আমার নিজের) আবেদনের বিষয়টি (মুনাজাতের) লিখিত দরখাস্ত প্রেরণের মাধ্যমে আরো জীবন্ত ও বাস্তব বলে আমার কাছে প্রতিভাত হয় বলে ইহা একান্তই আমার ব্যক্তিগত প্রেম ও আমার ব্যক্তিগত মানসিকতার বহি:প্রকাশ। তবে যেহেতু মুনাজাতের এ পদ্ধতি কখনোই সুন্নাত নয়, তাই আমাকে অনুকরণ, ‍অনুস্বরণ করে এ পদ্‌ধতি অবলম্বন করাটাকে ও ইহাকে সুন্নাত রুপে প্রকাশ করাকে আমি সর্বোতভাবে নিষেধ করছি। তারপরও যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে তার এবং এ পদ্ধতি অবলম্বনকারীর যে কারো কোন ধরনের দায়ভার আমি গ্রহণ করতে পারবো না। আমি স্থীর রুপে বুঝতে পারি দুনিয়ায় সুন্নাত নামীয় অনেক গুলো বিদআতের উৎপত্তি এভাবেই হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ আমার এ পদ্ধতিটি আমি বিশ্ববাসির সম্মুুখে উপস্থাপন করলাম এবং সে সাথে সকলের প্রতি প্রশ্ন রাখলাম এগুলোকে সুন্নাত রুপে পরিচয় দেয়া বা প্রাতিষ্ঠানিক রুপে সকলে মিলে আমল করা কখনো কি বৈধ হতে পারে? তাই মহান রবের নিকট এগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি মাইলফলক নিয়ে আসার তাওফিক কামনা করছি। ]

বিষয়:যৌতুকের গুনাহ মাফের জন্য ও মজলুম হিসেবে নেক মনোবাঞ্চনা সমূহ পূরণের জন্য মহান রবের নিকট আবেদন। 

প্রকাশ: bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল ও এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে এবং bondhonfoundation.com এ ওয়েবসাইটে টেক্সট আকারে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ফেসবুকের bondhon foundation group ও অন্যান্য আরো একাধিক গ্রুপে ভিডিও পোস্ট আকারে এবং ফেসবুকের   knowledge of islam এ পেজে  শেয়ারকৃত আকারে এ লিখাটি পড়া ও এ সংশ্লিষ্ট ভিড়িওটি দেখা যাবে।

 ইয়া রব,

শুকরিয়া এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করছি শুধুমাত্র তোমার প্রতি। আলহামদুলিল্লাহ! তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবার চেয়ে বড়। আল্লাহু আকবার। শত-কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি মানবতার মুক্তির দিশারী এবং আমাদের মতো মানুষদের চিন্তা ও কর্মশক্তির উর্দ্ধে, যার অন্যন্য এবং অতুলনীয় অবদান; এ বিশ্ব সৃষ্টির মাঝে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রবর্তনকারী আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা:) এঁর উপর। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বন্ধন ফাউন্ডেশন এর সকল সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি এবং গুগল ও তাদের সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি। প্রথমে আমি আমার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার একটু বর্ণনা দিয়ে শুরু করছি । যাতে আমাকে বুঝতে আপনাদের সহজ হয়। আমার ৩ মেয়ে, ১ ছেলে। আমার মা ও আমরা সহ পরিবারে ৭ সদস্য । আমি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করতাম। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় গত পনেরো মাস যাবত এক টাকা বেতনও পাইনি । বন্ধন ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন সোর্স থেকেও কোন ইনকাম এখন নেই । যেহেতু বন্ধন ফাউন্ডেশনের কোন ইনকাম এখন নেই তাই এ প্রতিষ্ঠানের লেনদেন মেটাতেও আমাকে সীমাহীন কষ্ট করতে হচ্ছে । এছাড়া সত্যের আমি একনিষ্ঠ সাধক। বেঁচে থাকার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিব ইনশাআল্লাহু তা’য়ালা ইহা আমি পারবো না । অন্যদিকে আমার আত্মীয় স্বজন আমার রুটি রুজি সহ যে কোন কাজে করছে অসহযোগিতা ও বিরোধীতা । ঘরের বউটিও বাড়ির অন্যান্যদেরকে করে সম্মান; আর আমাকে করে অবহেলা, তাচ্ছিল্য, অপমান আর অবজ্ঞা। এ মুহূর্তে সন্তানদের ভবিষ্যত ও পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার পাথেয় ও রসদ  উপার্জনের অবলম্বন আমার নেই । কেবলই মনে হচ্ছে আমার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আগে নিজের নাপাকী, মনের কালিমা তথা পাপ সমূহ দূর করার চেষ্টা করতে হবে । মহান রবের কাছে ও এ সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে মাফ চাইতে হবে। তাই মহান আল্লাহু তা’য়ালার নিকট ও মানুষের নিকট ক্ষমা ও মাফ চাইতে আমার অন্যান্য অনেক গুলো কাজ বাদ দিয়ে এ লিখা শুরু করলাম । জানি না টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা,  জীবন জটিলতা ও মনের এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় কথা গুলো লিখতে পারি কিনা এবং ভিডিওটি উপযুক্ত রুপে তৈরি করতে পারি কিনা । তাই আপনাদের দোয়া-ভালোবাসা চেয়ে এবং অগ্রীম ক্ষমার আবেদন জানিয়ে শুরু করছি ।   আজকের এ সেনসেটিভ বিষয়টি লিখতে আমি চেয়েছিলাম না। তারপরও অশান্তি যেন যাচ্ছেইনা। অবশ্য একটি সামাজিক প্রয়োজনকে উদ্দেশ্য করে এবং আমার নিজের ও সন্তানদের উন্নতিতে আশানুরূপ ফল দৃষ্ট না হওয়ার ভয় সৃষ্টি হওয়ায় কলম ধরেছি। না হয় এভাবে ব্যক্তিগত বিষয় গুলো প্রকাশ করতাম না। তাই একটু কষ্ট করে হলেও সমাজের দিকে দেখে এবং আমার দিকে দেখে আমার কথা গুলো একটু মনোযোগ সহকারে পড়ুন ও এ সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি দেখুন। কি করবো বুঝিয়ে লিখতে গেলে বড় হয়ে যায় । তাছাড়া সমাজিক ও ঘরোয়া কষ্ট যেন চির সাথীই হয়ে আছে। মানুষের মধ্যে আত্মীয় আর আপনজন বলতে কাউকে যেন পাচ্ছিই না। কেবলই মনে হচ্ছে আমার এ কুল ও কুল জুড়ে (আত্মীয় এবং অনাত্মীয়) অশরীরী ভাবে তুমি ছাড়া, মানুষের মধ্য হতে তোমার অনুকুলে আমার জন্য কেউ যেন নেই। যেদিকেই দেখি যেন তুমি বিহীন মানুষদের মাঝে (নিকট আত্মীয়-স্বজন সহ) শুধুই ঘৃণ্য, নগ্ন আর শয়তানি স্বার্থপরতা। তাই কারো কাছে যেন আমার মনের কথা গুলো বলতে পারছি না। ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা ! জীবনে কাউকেই যদি বিশ্বস্থ না পাই, অন্তত মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলে একটু স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলার জন্য যখন কাউকেই পাওয়া না যায় , আপনজনগণ বা যাকে ভালোবাসি সে বা তিনি যখন আমাকে অবিশ্বাস করে, আর আমার দূর্বলতার সুযোগ খুজে ও বাহুবল বা গোপন ষড়যন্ত্র বা গীবত-চোগলখুরি বা ছলনা বা গ্রুপিং-লোবিং, মিথ্যা–ইশারা-ইঙ্গিত ইত্যাদির মাধ্যমে তার অবৈধ স্বার্থসিদ্ধির ধাঁন্দা করে; তখন আমরা মানুষেরা অনেকেই আর সহ্য করতে পারি না, নি:শেষ হতে শুরু করি; অর্থাৎ বিষয়টি এ রকম যে, একটি ব্যাঙ চুলার উপর উত্তপ্ত করতে থাকা গরম পানির পাত্রে পড়ে গেলো, আর সে মনে করলো যে, এখনো তো কম গরম,  ইহা আমার জন্য কিছুইনা, আরো পরে এক লম্পে বেরিয়ে যাবো; অথচ তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন সে বেরিয়ে যেতে চাইলো এবং চেষ্টা করলো তখন আর বেরুতে পারলো না, নিঃশেষ হতে থাকলো । আমার মনের অবস্থাটিও যেন এ রকম । তাছাড়া আমার বর্তমান বয়স প্রায় ৪৬ বছর । আর এভাবে চলতে থাকলে তাহলে আমার ইচ্ছা-আকাঙ্খা গুলো, মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা নেক নিয়ত গুলো, আমার সুপ্ত প্রতিভা সমূহ ইত্যাদির বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হয়তো থেমে যেতে পারে বা এর গতি মন্থর হয়ে যেতে পারে । তাছাড়া বর্তমানে আমি অনেকটাই অবহেলিত, মজলুম ও জুলুমের শিকার । আর এর অনেক গুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ এই যে, লোকেরা আমাকে বুঝে উঠার কোন সুযোগ পাচ্ছে না । আমি আমার ঘটমান ও চলমান অবস্থা বা পরিস্থিতি সমূহ বা আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ তাদেরকে বুঝাতে পারিনি । এরই ফল হিসেবে মহান আল্লাহুতা’য়ালার প্রেমে বা তাঁর ভয়ে বা তাঁর ধ্যান মগ্নতায় যদি কখনো আমার চোখের কোণে অশ্রুবিন্দু দেখা যায়, তখন লোকেরা হয়তো ধারণা করে ও পাগল বা আল্লাহ্‌র পাগল। অর্থাৎ জাগতিক বা ব্রেইনগত ভাবে বা বিদ্যা-বুদ্ধিগত ভাবে সে দূর্বল । এছাড়া আমার এ সমস্যা গুলো একধরনের সামাজিক সমস্যা । কারণ আমার আত্মীয় স্বজন আমার বিরোধীতা করছে, আমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা বলছি, যা ইতিপূর্বে এ মহাবিশ্বে আর কেউ বলেনি, আমার স্বভাব সমষ্টি বাকি প্রায় কম করে হলেও এক লক্ষ লোক থেকে একটু আলাদা । এমতাবস্থায় আমার এ যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে আমাকে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে এবং লোকদেরকে আমার বিষয়ে একটি সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার লক্ষ্যে ও এর মাধ্যমে সমাজের অন্য মানুষদেরকে শিক্ষণীয় যদি কিছু উপহার দেয়া যায়, সে লক্ষ্যে আমার লিখনী ও ভিডিও নির্মাণের প্রচেষ্টা । তবে সাবধান, আজ আমি যে বিষয় গুলো সম্পর্কে লিখার চেষ্টা করবো আপনারা আমার মত এ অবস্থায় পতিত  না হলে, তাহলে কিছুতেই এ ধরনের লিখা লিখতে বা বলতে  পারবেন না । আর আমি যদিও লিখছি, তথাপি এ বিষয়ে মহান আল্লাহু তা’য়ালাকে যারপরনাই ভয় করছি । কারণ একদিকে যেমন পাপকে প্রকাশ করা আরেকটি পাপ এবং গীবত-চোগলখুরি করা আরেকটি মহাস্পর্শকাতর বিষয়; আবার তা যদি আপনজন বা নেতৃস্থানীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কারো বিষয়ে হয়, তবে এর পাপ/পুণ্যের প্রতিফলের  হিসেব করা বা এর পরিণাম উপলব্ধি করা আমাদের মতো মানুষের দ্বারা সম্ভবই না। এ জন্যে মহান রব এবং তাঁর বান্দাদের নিকট একান্তই ক্ষমা চেয়ে আরম্ভ করছি। ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা! আমায় ক্ষমা কর এবং তোমার বান্দা গণ যাতে আমায় ভুল না বুঝে ও এর মাধ্যমে তারা যেনো উপকৃত হতে পারে এবং সাথে সাথে আমাকেও প্রয়োজনীয় কথা গুলো বলতে পারার ও অপ্রয়োজনীয় কথা গুলো লিখা থেকে বিরত থাকার সে তাওফিক দাও। 

অদ্যকার লিখিত বক্তব্যের বিষয়বস্তু : (1) আমার পরিবার,(2) আমার বংশ, (3) বন্ধন ফাউন্ডেশন এবং (4) আমার মন ও ব্রেন সম্পর্কিত প্রিকশনেবল এবং স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ের ব্যাখা প্রদান এবং এর মাধ্যমে নিজকে প্রকাশ ও সমাজকে জ্ঞাতকরণ  । 

বক্তব্যের এ বিষয় গুলো একান্তই সতর্কতামূলক ও স্পর্শকাতর হওয়ায় আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখব না । শুধুমাত্র সংক্ষেপে দু’একটি কথা বা উদাহরণ লিখব। বাকি কথা বা এক্টভিটিজ বা পরিণতি সম্পর্কে আপনাদেরকে স্বজ্ঞানে বুঝে নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি ।

যাক এখন শুরু করছি আমার বক্তব্যের প্রথম  বিষয় দিয়ে । দেখুন আমার বড় মেয়েকে হাফেজ বানানোর বা হেফজ পড়ানোর উদ্দেশ্যে আমার অবাক করার মতো প্রচেষ্টা ছিল । তার লেখাপড়ার জন্যে আমি অকাতরে ত্যাগ স্বীকার করেছি। যেমন আমার কর্মস্থল ফেনী সদর হাসপাতালের মোড থেকে চাকুরি এবং অন্যান্য স্থানের প্রাইভেট টিউশনি শেষ করে ও বাজার নিয়ে দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতাম শুধু তাকে পড়ানোর জন্য । তাকে পড়িয়ে আবার যেতাম বাজারে, আমার প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক কালেকশন ও অন্যান্য কাজে ।যদিও আমি সকাল সাতটায় বের হতাম প্রতি দিন। এরই মধ্যে আবার বন্ধন ফাউন্ডেশনের অনেক গুলো রেজিস্টার মেইন্টেনেন্স করতে হতো । এর পর অনেক দূরের গণি সাহেবের মাদ্রাসায় শুধু টাকা কম খরচের চিন্তায় প্রায় এক বছরের উপরে দৌড়াদৌড়ি করলাম, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই যেতাম । পরে উন্নতি না দেখে ফেনী ফাতেমা একাডেমীতে ভর্তি করালাম। এখানেও যাতায়াত করতে থাকলাম । একসময়ে শুরু হলো মেয়ের মাথাব্যথা । এরপর ভর্তি করালাম মারকাযুল হুদা মাদ্রাসায়। যাহোক বর্তমানে যদিও সে দশ পারা মুখস্থ করেছে বলে বলেছিলো, করোনার কারণে ও অন্যান্য অনেক গুলো কারণে তাও প্রায় ভুলে গেছে । আমার অন্য ছেলে মেয়ে  (দুই জন ) পাশের মাদ্রাসায় পড়তো। কিন্তু এবার এতেকাফের সময় ঐ মাদ্রাসা মসজিদের দায়িত্বশীল কর্তৃক আমি সীমাহীন নির্যাতিত হওয়ায় এবং অর্থাভাবে আমার তিনজন ছেলে মেয়েকে এখন আমি নিজে পড়াই। আমার রুজি রোজগার সহ ছেলে মেয়েদেরকে মানুষ রুপে গড়ে তোলার যে কঠিন সংগ্রাম, সাধনা ও ত্যাগ স্বীকার; এ বিষয়ে আমার স্ত্রী বা পারিবারিক বা বংশীয় বা আত্মীয়-স্বজন কারো কাছ  থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা বা সাপোর্ট আমি পাইনি । বরং পেয়েছি আকাশ সম এক বাধার পাহাড় । মনে হচ্ছে আমার পারিবারিক, ঘরোয়া ও সামাজিক  জীবন এবং আমার সন্তানদের ভবিষ্যত হয়ে গিয়েছে অন্ধকারাচ্ছন, আর ধোঁয়াছায় নিমজ্জিত এক অনিশ্চিত আগামী এবং বেদনাদায়ক ও ব্যাথাতুর সঙ্খনীল কারাগারের মতো । একটু উদাহরণ দিলে বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের কিছুটা হলেও ধারণা হবে । যদিও প্রথম দু’টি সেনসেটিভি কেইসে এর কিছুটা বর্ণনা দেয়া হয়েছে । অতএব পুরোপুরি বুঝতে হলে সেগুলোও পড়া এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও দুটি দেখা প্রয়োজন বলে মনে করি । আগে আমার স্ত্রী ও আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে কিছু না লিখায় এবং দু:খ-কষ্ট, পারিবারিক অশান্তি ও সন্তানাদি সহ আমার ভবিষ্যত অনিশ্চায়তা এবং মানুষের ভূল বোঝাবুঝির সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্দেশ্যে পুনরায় কলম ধরলাম এবং সেই হেতু নিম্নে অল্প কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কে ইঙ্গিত করলাম ।

1। আমার স্ত্রীর সাপোর্টকৃত ভাবে মেয়ের নানা বললো, হেফজ পারবে না মনে হয়, স্কুলে ভর্তি করে দেন । এ ধরনের বিভিন্ন নেগেটিভ আচরণ আমার আত্মীয়-স্বজন থেকেও অহরহ শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রায় তিন বছরের মতো মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়ালেও মেয়ের নানাদের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে একজন আত্মীয়ও কোনো দিন দেখা পর্যন্ত করতে যায়নি । অথচ তারা সক্ষম ছিল এবং মাদ্রাসা গুলোও খুব বেশি দূরে ছিল না । আবার এখন আমি ঘরোয়া ভাবে নিজে পড়িয়ে হাফেজ বানানোর যে প্রচেষ্টা আরম্ভ করেছি, তাও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার মতো । কারণ আমার ঘরে ভাত নাই। রুজী রোজগারের ব্যবস্থা নাই এবং এ সিস্টেমে হাফেজী পড়ানোর নজির দুনিয়ায় খুব একটা নেই ।

২। মাদ্রাসায় পড়ালে আমার স্ত্রী যে কারণেই হোক, যদিও মাদ্রাসায় প্রায় সবার শেষেই পাঠাতো; তারপরও অন্তত সকাল নয়টার মধ্যে পৌঁছাতো । আর আমি গত পনেরো দিনের উপরে চিৎকার করে যাচ্ছি, সকাল সাড়ে আটটায় আমার কাছে পাঠাতে  (বাড়ির সামনেই রাস্তার পাশে আমার অফিস রুমে ) । অথচ আমার কাছে আসে বেলা দশটায় বা তারও পরে । অবশ্য যখন বলেছি এ বিষয় গুলোও প্রকাশ করবো, তখন থেকে অগোছালো ভাবে দু’এক দিন নয় টার মধ্যে পাঠিয়েছে । এ যেন দরকারটা শুধু আমার । তাদের প্রয়োজনেই তাদেরকে যেন বাধ্য করে করাতে হবে কাজ, আর এ কারণে আমাকে হতে হবে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত এবং তাদের কাছেই হতে হবে অপরাধী। একই সিস্টেম সমাজের মধ্যেও; নেমেছি আমি সমাজ সেবা মূলক কর্মে, অথচ সমাজের বেশির ভাগ মানুষের কাছে আমি অবহেলিত । আর যখন মানুষ আমার নিকট, আল্লাহ ভীরুতা,  আল্লাহ প্রেম,  মানুষের প্রতি উদারতা বা ক্ষমাশীলতা প্রত্যক্ষ করে,  তখন বেশিরভাগ মানুষের কাছে আমি পাগল হিসেবেই সাব্যস্ত হই।

৩। বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় মাঝে মধ্যে বাড়ি যেতে অনেক রাত হয়ে যায়, তখন দেখি হয়তো বাতি জ্বালিয়ে, মশারি না টাঙ্গিয়ে অগোছালো ভাবে ঘুমোচ্ছে । আর আমি বকলে এবং এ নিয়মটি সবসময়ই, তাদের প্রয়োজনে তাদেরকে সংশোধন করতে কিছু বকা-ঝকা করলে এবার আমি আমার অধিকার ও নূন্যতম সার্ভিস টুকুও পাইনা; তখন ভাত আমাকে নিজকে নিয়ে খেতে হয়।

৪। আমার বিয়ের শুরুতে আমার স্ত্রীকে দেখলাম সে আমার গায়ের উপর দিয়ে বিছানায় এদিক থেকে সেদিক টপকিয়ে পার হয়। আমাকে পাত্তা না দেয়ার, দূর্বল করে রাখার এবং পুরুষ জাতির প্রতি ঘৃণা বোধতার একটি অবস্থা তার নিকট থেকে যেন শুরু থেকেই প্রত্যক্ষ করতে শুরু করলাম । তারপরও তাকে অনেক ভালোবাসলাম। কারণ আমি অনেকটাই অসহায় ও সহজ সরল ছিলাম । কিন্তু সে আমার ভালোবাসরতো কোন মূল্যায়ন করেই নাই; উপরন্তু  আমার বাড়ির  লোকদেরকে প্রাধান্য দিয়ে (ইতিপূর্বে দু’টি সেনসেটিভ কেইস লিখে তা এ ওয়েবসাইটেই আমি জানিয়েছিলাম) আমাকে বাধ্য রাখার এবং সে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানের সহিত বেঁচে থাকার পদ্ধতি অবলম্বন করলো।

৫। আমার বড় মেয়ের বয়স যখন ছয় মাস, তখন তার জ্বর হলে,  আমি গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেফ ৩ আনয়ন করি, কিন্তু আমার স্ত্রীকে খাওয়াতে বললে, সে প্রায় দু’তিন দিন খাওয়ায়নি ; আমার সাথে বিভিন্ন ছলনা ও অজুহাত দেখিয়েছে । মূল কারণ ছিলো, বাড়ির লোকদের ব্যবহারে হয়তো তার ধারণা হয়েছিল যে, আমি কিছু জানিনা, বুঝি না; এ সব।

৬। আমি একটু চা খেতে চাইতাম । তাকে বানাতে বললে, সে প্রায়ই বিভিন্ন টালবাহানা ও ছলনা করতো এবং বানাতো না। এক পর্যায়ে চা না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলাম এবং প্রায় বছর খানেক চা খেলাম না। কিন্তু এতে সে সমাজের চোখে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় একটু দুঃখিতও হলো না। সে কখনোই আমাকে স্বামীর মর্যাদা দেয়নি, স্বামীর সম্মান করেনি; সে যা করেছে তা হলো সমাজের চোখে যা না করলে সে দোষী সাব্যস্ত হবে না তা অথবা বাকি দশজন তাকে যা করতে  বলেছে, সে শুধু তাই করেছে । অর্থাৎ সমাজের চোখে সে স্বামীকে দেখেছে এবং স্বামীর সাথে ব্যবহার করেছে; কখনোই স্বামীকে স্বামীর মর্যাদা দিয়ে নয়।

৭। বিয়ের প্রথম দুই বছরেই একবার তার ছোট ভাই বেড়াতে আসায়, আমি তাকে বললাম, তোমার ভাইয়ের বয়স হয়েছে (তখন তার বয়স ছিল প্রায় দশ বছর) তাকে আলাদা বিছানায় ঘুমোতে দাও। এতে সে কিছুতেই রাজি না হওয়ায় আমিই আলাদা বিছানায় চলে গেলাম। এভাবে কাটলো প্রায় ১১ কি ১২ দিন। এর মাঝে আমার জ্বর হলো। অথচ বিছানায় সে আমাকে দেখতেও আসতো না। অনেকটাই বিরক্ত হলাম। এর মধ্যে শাশুড়ি ফোন করলে যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করলাম । এতে আমার শশুর ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বাড়িতে এসে আমাকে অতিরিক্ত বকাঝকা আর অপমাণ মুলক ভাষা ব্যবহার করে গেলো। আচ্ছা এখানে দোষটা কি আমার ছিল? নতুন বিয়ে করেছি, অথচ স্ত্রী ভাইকে নিয়ে দিনের পর দিন আলাদা ঘুমোবে আর আমাকে অবহেলা করবে, এটি কি আপনি মেনে নিবেন? আর সে স্থলে  আমাকে হতে হলো সীমা ছাড়া অপমাণিত ।

৮। একবার কি হলো শুনেন, আমি বাড়ি এসে দেখলাম আমার স্ত্রী বাড়িতে নেই । অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম, কিন্তু পেলাম না। কেউ কিছু বলেওনা কোথায় গেছে । পকেটে টাকা ছিল না, প্রায় পা’য়ে  হেঁটে গেলাম আনুমানিক ১০ কিমি দূরে  আমার শশুর বাড়িতে তাকে খোঁজার জন্য। সেখানে তাকে পেলাম না। ফিরে এসে আবার গেলাম আনুমানিক ৫ কিমি দূরে তার খালাম্মার বাড়িতে । এখানে তাকে পেলাম । এখন কথা হলো আমি কি তার প্রতি বা আমার বাড়ির লোকদের প্রতি সীমা ছাড়া কোন অন্যায় করেছিলাম যে আমাকে বিভিন্ন সময়ে এভাবে অত্যাচারিত হতে হয়েছে বা হচ্ছিল? আর আমি যদি এভাবে যন্ত্রণায় কাতর ও অতিষ্ঠ হয়ে অগোছালো ভাবেও যদি কোন দিন তালাকের  ফরমান বলে দেই বা দিতাম, তাহলে কি একটি সংসার বিচ্ছিন্ন হতো না? এর জন্য মূলত কে বা কারা দায়ী? কাদের মনোভাব বা ইন্ধনে আমার স্ত্রী আমার সাথে এ ধরনের দূঃব্যবহার মূলক আচরণ করে ছিলো বা করছে? আর যে অবস্থাতেই হোক না কেন আমি যদি তালাক শব্দ উচ্চারণ করি, তবে তা বর্তাবে না?

৯। এবার আমার স্ত্রীর একটি ঘরোয়া দূঃব্যবহার তুলে ধরছি । গতকাল আমি বাড়ি গিয়েছি রাত সাড়ে দশতায়। সামনের রুমে, আমার বিছানায় (ভিতরের রুমে আমার স্ত্রী আমার বড় মেয়েদেরকে নিয়ে ঘুমায় । তাকে যতই বলি মেয়েদের বয়স দশ বছর পেরিয়ে গেছে, তাদের বিছানা পৃথক করে দাও । সে শোনে  না) আমার ছোট বাচ্চার মূত্র । তাকে বললাম উপর দিয়ে একটি ভালো কাঁথা বিছিয়ে দাও (না বললে আমি তার নিজ থেকে কোন সার্ভিস পাই না)। সে আরেকটি মূত্রের কাঁথা বিছিয়ে দিলো। মূত্রের কথা বললে সে মূত্রের দিককে ভাঁজ করে দিলো এবং আমার সাথে অনেক তর্ক করলো। সে এতো কাঁথা ধু’তে পারবে না। ঠিক আছে কিন্তু পাশে আরেকটি বিছানা আছে, তাও ঠিক করে দিলো না। এখন এভাবে হলে আমি কিভাবে পবিত্রতা রক্ষা করবো বলুন? তাছাড়া কোথায় মল-মূত্র আছে অনেক সময়েই সে আমাকে সতর্ক করে না এবং তর্ক-বিতর্কের অনেক সময়েই বলে বাড়ির মানুষ জন ভালো, শুধু আমি ভালো না। আমি ভালো হলে, নিজের রক্তের ভাইদের সাথে এ রকম করতাম না। আর এ কথা গুলো বলছে, যখন এ বছর রমজান থেকে আমি প্রতিবাদ করা শুরু করেছি এর পর থেকে ।

১০।এবার আমার নির্দেশ অমান্যের একটি উদাহরণ দিচ্ছি । আমার ঘরে মোটর নেই । টিউবওয়েল আছে । বাথরুম ও টয়লেট ঘরের ভিতরে । তাকে যত বললাম বাথরুমের বালটিতে পানি ঢেলে রাখবে এবং একটি মগ ও একটি সাবান সবসময় বাথরুমে রাখবে । সে প্রায় তেরো বছর আগে (বিয়ের প্রথমে) বলে ছিলো, বাথরুমে এক লোটা  এক লোটা নিয়ে ব্যবহার করলেই তো হয়। আজও সে সেভাবেই আছে । কারণ আমি যখন রাস্তার পাশে ঘর করে, এখানে মাঝে মধ্যে থাকা শুরু করলাম তখন বাড়ি গিয়ে দেখলাম তার আগের চরিত্র পূর্ণ ভাবে প্রতিভাত। আগেও সে  প্রায়ই শুনতো না।

আমার সাথে ঘটমান পারিবারিক এ কষ্ট দায়ক বিষয় গুলো কি যৌতুকের কূ-ফসল নয়? আসলে আজকের এ লেখাটি লিখতে একধম মনই চাচ্ছে না। আর আমি যৌতুক কেন নিলাম! আমার সহায় সম্পত্তি  যখন প্রায় হারিয়ে ফেললাম, যা  সেনসেটিভ কেইস 1 ও 2 এর মধ্যে লিখা রয়েছে এবং আমার বয়স যখন ৩০ বছর পার হয়ে গেলো তখন অনেকেই বলল, বয়স তো পার হয়ে যাচ্ছে, এখন বিয়ে না করলে কখন করবে ? আমি বললাম, আমার কাছে টাকা নেই, ঘর নেই ; আমি কেমন করে বিয়ে করবো ? এতে হুজুরদের দু’একজনের শরণাপন্ন হলে তারা বলল, ইচ্ছা করে যদি কেউ দেয় (অর্থ-কড়ি), তবে নেয়া যায় । সেদিনকার তাদের সে উত্তরে আমি নরম হয়ে গিয়েছিলাম এবং এ বিয়ে সম্পন্ন করে একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ সংগঠিত করেছিলাম । আর এখন এর বিষফল আমার সংসার জীবনে আমাকে ভোগ করতে হচ্ছে । আমি বিনীত ভাবে হুজুরদেরকে অনুরোধ করবো আপনার বন্ধু হোক আর শত্রু হোক,  আপনার মাসআলা বা বিচারের রায় আবেদনকারীর বা যে কারো উপকার হোক বা অপকার হোক  (আপনার বা এ মহাবিশ্বের সব গুলো প্রাণীর দৃষ্টিতে যদি হয় তবুও), আপনি আবেদনকারীকে ভালোবাসেন বা আপনার রায়ে তার ফাঁসি হোক অথবা এই উচিত বিচারে আপনার ক্ষতি হোক;  সর্বাবস্থায় আপনি বা আপনারা শুধু মাত্র আল-কোরআন এবং আল-হাদিস অনুযায়ীই রায় দিবেন । রায়ের ক্ষেত্রে কাউকে খুশি করা বা কারো জন্য ব্যথিত হওয়া অথবা আপনার লোভ, রিয়া,  অহংকার বা ভয় করা বা কারো জন্য দুঃখিত হওয়া ইত্যাদি কোনদিন বিচারক বা আলেম হিসেবে আপনার থাকতে পারে না । আবার অভিভাবক ও পাত্র-পাত্রীদেরকে এ বলে ম্যাসেজ দিতে চাই যে, আপনাদেরকে কোন হুজুর বা কোন বিজ্ঞ লোকও যদি বলে যে, পাত্রী পক্ষ ইচ্ছে  করে বা উইলিংলি দিলে তবে জায়েয, আপনারা এতে কান দিবেন না । এ পদ্ধতিটিও শয়তানি ধোঁকা । প্রকৃতপক্ষে পাত্র পক্ষ থেকে পাত্রী পক্ষের প্রতি কোন ধরনের আশা বা বিনিময়ের কথা-বার্তা বা চুক্তি যদি হয়ে থাকে বা থেকে থাকে (বিয়ের আগে), তা পাত্র পক্ষের আবেদনের কারণে হোক বা পাত্রী পক্ষের মুহাব্বত বা যে কোন রিলেশনের কারণে হোক, এ উভয় নিয়মটিই একটি জঘন্য ও সামাজিক ভাবে রাষ্ট্রীয় বিচার বা সমর্থনের মাধ্যমে একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে । এ ধরনের যে কোন লেনদেনের কারণে বা লেনদেনের আশায় যদি কোন বিয়ে সম্পাদিত হয় তাহলে, তার উপর পাত্র ও পাত্রীর মাঝে শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচরণ, ঈমান, আমল এবং স্বভাব সমষ্টি এসবে যদি গরমিল থাকে (যৌতুকের বিয়েতে গরমিল বা ব্যবধান থাকাটাই স্বাাভাবিক) তবে ঐ সংসার টিতে শান্তি আশা করা একদম বৃথা। তাই আমি যে কষ্টটি পেয়েছি বা পাচ্ছি; আর কেউ যেন এভাবে নরকের কষ্ট না পায়, সে জন্য আমি পাত্র-পাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দকে একান্ত অনুরোধ করবো আপনাদের সংসার টিকে বা আপনাদের ছেলে-মেয়ের জীবনটিকে অশান্তি আর অনলের কুন্ডলি বানাবেন না। আমি মিনতি ভরে ও একান্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, যৌতুকের ধারে-কাছেও যাবেন না। এটি শুধু গুনাহ নয়, এটি আপনার সংসার জীবনের সবগুলো যন্ত্রণা, অসম্মান আর অনগ্রসরতার মূল কেন্দ্র। আবার এর জন্য আমি নিকটস্থ আলেম সমাজ ও সমাজ পতিদেরকেও দায়ী করবো । কারণ আপনাদেরকে মহান আল্লাহু তা’য়ালা শুধু নিজের স্বার্থ চিন্তা করতে এ যোগ্যতা দেয়নি । আপনার জ্ঞাতসারে যে সব ভালো কিংবা মন্দ কাজ হয়,  আপনাকে সাধ্যমত এতে প্রাটিচিপেট করা, এটিই ইসলামের আইন । শুধু পুঁথিগত বিদ্যা আউডালেন আর এ জীবনে শুধু স্বার্থ সিদ্ধি করলেন; ভাই এর জন্যইকি মহান রব আপনাকে এ দুনিয়ায় শক্তি  সামর্থ্য আর বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়েছিল? যাক নিজের কথায় ফিরে আসি । আমি জানি নিজের আমল-ইবাদত, নিজের পাপের কথা ও নিজের দূর্বলতা কখনো প্রকাশ করতে নেই। দেখুন আমার মাঝে এবং আপনাদের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে । সত্য ও ন্যায়ের জন্য আমি সবাইকে ত্যাগ করেছি। শুধু নামাজ আর পবিত্রতার জন্য ছেলে মেয়েদেরকে দুই দিন পড়াইনি,  স্ত্রীকে কড়া শাসন করেছি । নামাজ, রোজা, মসজিদ, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা ও সমাজ কল্যাণ মূলক প্রতিষ্ঠান বন্ধন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজ ভাই বোন সহ প্রায় সকল আত্মীয়-স্বজন এর নিকট পর হয়েছি । আর তাই আমি যেভাবে নিজের অপরাধ প্রকাশ করছি ও নিজের আত্মীয়-স্বজনের বিরোধীতা করছি, আপনারা কখনোই  তা করতে যাবেন না। আর যেহেতু আমি যৌতুক গ্রহণ করেছি (তাদের বিয়ের প্রস্তাবে আমি আমার দুর্বলতার কথা বলায় তারাই রাজি হয়ে আমাকে দেড় লক্ষ টাকা দেয়। অবশ্য আমি তখন শারীরিক ও মানসিক ভাবে এবং অর্থগত ভাবে একদম ভঙ্গুর প্রকৃতির ছিলাম। তারা অবশ্য বলে ছিলো, আপনি টাকা নিয়ে কী করবেন? আমি বললাম, আমার পাকের ঘর নাই। এর  অল্প কয়েক বছর পরেই আমি আমার বাবার জমি বিক্রি করে যৌতুকের টাকায় দেয়া সে ঘর সংস্কার করে পাকা করে দিয়েছিলাম। তাহলে কী লাভ হলো এ যৌতুক নিয়ে ?) তাই আমি পাপী, আমি সমাজের প্রতি অপরাধী এবং আমি লক্ষ্য করেছি যেদিন থেকে এ অপরাধ সংঘঠন করেছি, তার পর থেকেই আমার মান-সম্মান যেন ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যন্ত্রণা যেন আমার সঙ্গী হয়ে গেছে; আর এখন আমার সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে  সন্দিহান হয়ে  গেছি । তাই উপায়-বুদ্ধি না দেখে, যেহেতু এ অপরাধটি সামাজিক অপরাধ, তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনতার নিকট ক্ষমা ও মাফ চাইতে মহান আল্লাহু তা’য়ালার মাধ্যমে এবং তাঁর নিকট আবেদন জানাচ্ছি । হে মানবকূল  আমায় মাফ করে দাও । আমি সুন্নাতের লেবাস  ধরে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এ পাপ করেছি। আমার নিকট সামর্থ্য  হলে আমি আমার শ্বশুরের দেয়া যৌতুকের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ইনশাআল্লাহু তা’য়ালা ফিরিয়ে দিবো। আর আপনারা যদি মাফ না করেন তাহলে আমি হয়তো জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবো এবং দুনিয়ার জীবন  হবে আমার  যন্ত্রণা দায়ক ও আমার নেক আশা ও পরিকল্পনা গুলো হয়তো প্রতিফলিত ও বাস্তবায়িত হবে না । তাই মহান আল্লাহু তা’য়ালার ওয়াস্তে আমাকে আপনারা সকলে মাফ করে দেন। আমি কথা দিচ্ছি  ভবিষ্যত জীবনে ইনশাআল্লাহু তা’য়ালা আমি সমাজের প্রতি সম্মান ও বিনয়ের সহিত যৌতুক পরিহার করব এবং যৌতুক নেবোও না, দেবোও না।  ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা তুমি তোমার বান্দাদের দিলে  রহমত ও তাওফিক দাও আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য এবং তুমি মাফ করে দাও । ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা আমি অনুতপ্ত এবং লজ্জিত, আমি পাপ করেছি, আর ক্ষমা করা তোমার বৈশিষ্ট্য এবং আমি প্রতিজ্ঞা করছি ভবিষ্যতে তোমার রহমত ও ভালোবাসায় আমি আর এ ধরনের কোন পাপ করবো না। অতএব আমাকে মাফ করে দিবে এবং আমার  ছেলে মেয়ে দেরকে আলেম, হাফেজ এবং ক্বারী  বানাবে ও তাদেরকে মানুষের সেবা করার তাওফিক দিবে। বন্ধন ফাউন্ডেশনকে তোমার মন মতো করে প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দিবে।  

এবার আমার দ্বিতীয় বিষয়, আমার বংশ সম্পর্কে আরো দু’একটি ঘটনা লিখবো (যেগুলো আগের সেনসেটিভ কেইস দু’টি তে লিখিনি )।

১১। আমি যখন একটু বেশি আল্লাহ্ ভক্ত ও দুনিয়া বিমুখ হয়ে গেলাম, তখন এক রাতে আমাকে এমন একটি রুমে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে রাখা হয়েছিল, আর ভিতরে রুমের বিদ্যুতের বোর্ড ও লাইন গুলো খোলা ছিল । তাহলে আমার মাথা যদি খারাপই হয়, আমার আত্মীয়-স্বজন আমাকে কেমন করে একটি রিক্সেবল রুমে আবদ্ধ করে তারা রাত কাটালো, এ বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।

১২। আরেক রাতে তারা আমার সমস্ত শরীর রশি দিয়ে এমন শক্ত করে বাঁধলো(এর নেতৃত্ব দিয়ে ছিল আমার জেঠাতো ভাই), পরে রাত দুইটার দিকে এসে আবার খুলেও দিলো; রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যদি কোন অঘটন ঘটত, তাহলে কি তারা খুশি হতো? আমি আজ পর্যন্ত বুঝিনি এর মূল কারণ । কেন তারা বিভিন্ন সময়ে আমার উপর এভাবে টর্চারিং করলো? তবে আমি তাদের নেতৃত্ব মানতাম না, তাদের অধীনতা স্বীকার করতাম না । বিভিন্ন সময়ে আমার জেঠাতো ভাইটির সাথে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা উঠতো, আর তিনি বাহুবলে আমায় অপমানিত করতেন। কারণ তিনি মাদ্রাসায় পড়েছেন, আর আমি মাদ্রাসায় পড়িনি । একবার কি হলো যে, বাড়ির সকলের অত্যাচারে, যন্ত্রণায় আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফেনী জেলার পরশুরাম থানার কোন এক স্থানে চলে গেলাম । স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে, তারা পুলিশে খবর দিলো। পুলিশ এসে আমার ভাইকে ফোন দিলে, তিনি আমাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করলেন। এরপর পুলিশ ভাইটি আমাদের এলাকার মেম্বার সাহেবকে ফোন দিলে, তিনি আমার বিষয়ে পজিটিভ উত্তর দিলেন। যার ফলে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়। নতুবা সেদিনও আমাকে অনেকটাই বিডম্বনায় পড়তে হতো। যাক মেম্বার সাহেবকে মহান আল্লাহু তা’য়ালা কবুল করুক। আমার ভাইদেরকে যখন বলতাম, আপনারা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়েন । এতে আমার জেঠাতো ভাই স্পষ্ট জানালো যে, আমরা মসজিদে যাবো না । অবশ্য আমার উপর অতি মাত্রায় টর্চারিং এর একটি কারণ এও হতে পারে  যে, যেহেতু আমি তাদের অধীনতা আর বশ্যতা স্বীকার করতাম না, তাই পরবর্তী জীবনে তাদের নিকট যাতে দূর্বল ও ভীত থাকি। তবে তখন আমি এভাবে ওপেন প্রতিবাদ করতাম না। আমি প্রতিবাদ করা শুরু করেছি এ বছর রমজানের শেষ দশক থেকে । এর কারণ হিসেবে আমি দেখলাম, আমি যদি দিনের পর দিন এভাবে প্রতিবাদ না করি, তবে আমিই দোষী হিসেবে, পাগল হিসেবে এবং বোকা মানুষ হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি ও আমার কার্যক্রম সমূহ বন্ধ বা অবদমিত হয়ে যাচ্ছে । আর তাই আমি ওপেন হয়ে গেলাম । এ পর্যায়ে আমার শুধু রবকেই ভয়। তবে আমি রবকে এবং এ সমাজের মানুষদেরকে এ বলে কথা দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহু তা’য়ালা যদি আমায় এমন কোন পজিশন দেয়, যেখানে অবস্থান করলে, তারা আর আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না , তবে আমি আর তাদেরকে এড়িয়ে চলবো না। অপরদিকে আমি এখনো তাদের কাউকে হিংসা বা ঘৃণা করি না বা তাদের কোন ক্ষতি আমি করিনা । আমি শুধু  আমার পথে চলছি, এ হলো আমার অবস্থান ।

১৩। আমার আত্মীয় স্বজন যে, আমার কোন ধারই ধারতো না, তার অনেক গুলো নমুনা আগের দু’টি সেনসেটিভ কেইসে বলেছি। এখানেও একটু বলছি । দেখুন এ বন্ধন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমি আমার জীবন ধারণ ও সংসার পরিচালনা করছি। অথচ গ্রামের মানুষ অংশ গ্রহণ করলেও আমার বংশ থেকে একজনও অংশ গ্রহণ করেনি। আমি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কোরান শরীফ হেফজ করানো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আপলোড করি। কিন্তু আজ তিন মাসে আমার একটি চ্যানেলে সাবেস্ক্রাইবার হয়েছে মাত্র ৪০ জন । আমার একটি মসলার প্যাকেটের দাম মাত্র ৪০ টাকা । অথচ আমার আত্মীয়-স্বজন কেউ নিতে চায় না । তাদের সামনে এটি আমি পিউর করে তৈরী করেছি। যদি এতে কোন ত্রুটি বা সন্দেহ থাকে , তবে তারা তা প্রকাশ্যে বা গোপনে বলুক। কিন্তু তারা তা পারবে না। কারণ এ মসলায় কোন ধরনের সন্দেহ বা ত্রুটি নেই। 

১৪। ইদানিং একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করছি যে, যেহেতু মানুষদের একাংশ আমাকে গ্রহণ করেছে এবং সমাজের একাংশ আমার আত্মীয়-স্বজন এর বাধা না শুনে এ প্রতিষ্ঠানে অংশ নিয়েছে এবং সবাই মিলে প্রতিষ্ঠানের অফিস প্রতিষ্ঠা করা সহ যাবতীয় কার্জক্রম বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করেছে এবং ধীরে ধীরে আমারও একটি সামাজিক অবস্থান তৈরী হয়েছে বা হচ্ছে এবং যা অনেকটাই ক্রিয়েটিভ ও অপ্রতিরোধ্য (যেমন শত বাধা থাকা সত্ত্বেও, এ অফিসটিই শুধু প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে) , তাই সমাজের কাছে আমার ভাইগণ অসম্মানিত হওয়ায় ( যেহেতু তারা এ প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বাধার পাহাড় ছিলো), তাই আমার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কেউ এখন আমার ছোট ছেলেকে মানুষের সামনে (পিছনে নয়)  জিজ্ঞাসা করে, তুমি কেমন আছো!? এ যেন বিশ্বকবির সেই পংতীর মতো । তিনি লিখেছিলেন,  ‘কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে,  ভাই বলে ডাকো যদি দেব গলা টিপে;  হেন কালে গগণেতে উঠিলেন চাঁদা, কেরোসিন শিখা বলে এসো মোর দাদা’। অবশ্য এখনো সে পর্জায়ে তো নয়ই, তার ধারে কাছেও নয়। আমার ছেলের সাথে এ ব্যবহার এখনো এগুলো আমার প্রতি সম্মানের বহি:প্রকাশ নয় । এগুলো দূর্ভিসন্ধি। আমাকে দূর্বল করা বা কূটবুদ্ধি । তবে তাদের ভিতর যে একটি সামাজিক অসম্মানের বীজ ঢুকে পড়েছে তা স্পষ্ট বুঝতে পাই। (মানুষও বুঝতে পেরেছে ঠিক যখন আমি প্রতিবাদ করেছি তখন থেকে। আগে মানুষেরাও সবাই বিষয়টা বুঝতো না। বিশ্ব কবি এ ধরনের কথাও বলেছেন, যে তুমি যদি প্রতিবাদ না কর, তাহলে আসামি তুমিই হবে। অবশ্য আমি আমার ভাষায় বলেছি) । আর এ থেকেও উত্তরণের জ্ঞান ও ফিকিরের কোন কমতি তাদের নেই। বিভিন্ন ওয়েতে, বিভিন্ন প্রচেষ্টায় আমাকে বাধ্য করার এবং অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে আমার বিষয়ে এখনো ভুল বুঝিয়ে, আবারও অপমাণিত করে বাধ্য করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে আমি তাদের কারো কারো সাথে অপমানের সহিত তাদেরকে বড়ত্বে রেখে মিশে যাই। আর তাদের দোষ ঢেকে যাক। অপরদিকে মসজিদের সভাপতি, আমি যে তার নিকট একটি দরখাস্ত দিয়েছিলাম (এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সেনসেটিভ কেইস ওয়ান), সে বিষয়ে আমার কাছে জানতেও চায়নি, আমি তার নিকট কী দিলাম, কেন দিলাম। আমি উনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। অন্তত উনি আমার কাছে জানতে চাইতে পারতো আমি উনাকে কী দিলাম। যেহেতু আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। যাক মহান আল্লাহু তা’য়ালা আমাকে সব কিছু সহ্য  করার তাওফিক দান করুক। (দু:খ লাগে সে জন্য লিখলাম। কী করবো, কলম ছাড়া মজলুমের ভাষাতো এখন আর নেই।) এক্ষণে আমি সবাইকে একটি কথা জানাতে চাই যে, দেখুন সুদীর্ঘ সময়ে এবং তাদের (আমার ভাইদের) দোসরেরা সহ আমার বিরুদ্ধে মানুষদেরকে ভূল বুঝিয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে এবং আমার সাথে অমানবিক ও পাষবিক ব্যবহার করে তাদের বিষয়ে আমাকে রোগিতে পরিণত করে ফেলেছে। যার জন্য এখন আমি তাদের সাথে চলতে বা একসাথে অবস্থান করে কোন কাজ করতে বা ইবাদত করতে গেলে আমার স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হয়। তারা কাছে থাকলে আমি কোন কাজ পারি না, ভূল করি। জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায় আমার। ব্যক্তিত্ব বিনষ্ট হয়। ভালো ইবাদত করতে পারি না। আর ইহা আমার অহংকার নয়। ইহা হচ্ছে আমার চাপা কান্নার বহি:প্রকাশ। ইহা হচ্ছে আমার রোগ। কারণ যাদেরকে সারা জীবন শ্রদ্ধা-সম্মান করে গেছি। আজ আমি যখন বিপদে পড়েছি, আমি যখন সাহায্যের আবেদন জানিয়েছি; তখন তাদের কেউ আমার সাথে নাই। তার উপর আমার উত্তরণের সমস্ত দরজা তারা যেন বন্ধ করে দিতে চায়, এ যেন তাদের অবস্থা। দেখুন এ মুহুর্তে বেশি লিখতে পারবো না, কারণ আমার মানসিক অবস্থা একেবারেই নাজুক। চারদিকে আমার বেহাল অবস্থা। খাওয়া পরার টেনশান। পাওনাদারকে পাওনা পরিশোধের টেনশান। আবার একটি বাড়িতে, একটি ঘরে সবাই যখন আমার বিরোধিতা করে, অসম্মান করে এবং সমাজের বেশির ভাগ মানুষ যখন তাদের সাথে একত্রিত হয়। সে সাথে আমার কাছে যদি টাকা কড়িও না থাকে, তখন এ লোক স্বাভাবকি থাকতে পারবে না, ইহা মেনে নিতে হবে ও বুঝে নিতে হবে। শুধু আমি জানাতে চাই যে, যেহেতু আমি রোগি এবং মজলুম হয়েছি তাদের দূ:ব্যবহারে ও অবহেলায়; তাই তাদের সাথে হাসিমুখে চলতে আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অক্ষম। তাদেরকে অতি ভক্তি করতে আমি আর পারি না। যে কারণেই হোক এরপরও তাদের সাথে একত্রে চলার জন্য আমাকে প্রেসার ক্রিয়েট করা বা আমার এ শারীরিক দূর্বল অবস্থাটির উপর কূ-যুক্তি খাটিয়ে বা মানুষের নিকট প্রমাণ উপস্থাপন করে আমাকে অহংকারী সাব্যস্ত করা ও  এভাবে আমাকে পাগল বানিয়ে দিয়ে নিজেদেরকে সাধু প্রমাণিত করা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সকলের নিকট বিনীত আহবান জানাই। বিশেষ করে কিছু বালক শ্রেণীর (আমার বাড়ির কয়েকজন সহ) , বোকা শ্রেণীর , গরীব শ্রেণীর আর তাদের দোসরদের জন্য আমি দু’হাত তুলে দোয়া করি, আপনাদেরকে মহান আল্লাহু তা’য়ালা হেদায়েত দান করুক। কারণ সীমাছাড়া অপমাণিত হয়েছি, আপনাদের কাছে। কখনো কিছু বলতেও পারিনি;যেহেতু আমি যে ভদ্রলোক! দয়াবান! আমি যে আপনাদের জন্য কল্যাণমূলক কিছু একটা করবো! আবার আমি কখনো তাদের (আমার আত্মীয় স্বজনদের) সাথে হিংসা বা দম্ভ করছি না; আমি শুধু আমার শারীরিক ও মাানসিক অক্ষমতার কারণে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় করে চলতে স্বাচ্ছন্দবোদ করছি। তবে যেহেতু আমি এখন প্রতিবাদ করেছি এবং যেহেতু তাদের সাথে চলতে আমার আর ভালো লাগে না, স্বকীয়তা বিনষ্ট হয়; তাই যদি মহান আল্লাহু তা’য়ালা আমায় স্বচ্ছলতা দান করেন, তবে আমি সব ভুলে গিয়ে আমার ভাই-বোন সহ সকল আত্মীয় স্বজনের সাথে মিশে যাবো। অর্থাৎ যে অবস্থা হলে পরে তারা আমায় সম্মান করতে বাধ্য হবে। এবং তখন  যাতে আবার তাদের সাথে কোন ধরনের প্রিকশান না ঘটে সে জন্য আমি এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। কারণ আপনারা সকলে জানেন অশান্তি যুদ্ধ অপেক্ষা গুরতর। প্রিয় পাঠক এবং শ্রোতা একটু ভাবুন! আমি না হয় ইয়াহুদি আর নাসারাদের সহযোগিতায়, তাদের অনলাইন সুবিধায়, এ কথাগুলো আপনাদেরকে শুনানোর পথ পেয়েছি, একটু হলেও বুঝতে পেরেছেন; আর দুনিয়ার যে সব মজলুমের বাহুবল বা কলম কিছুই নেই, তাদের সাথে এ পৃথিবীর মানুষেরা কেমন আচরণ করে!!? আর মহান রব তাদের সাথে কেমন আচরণ করবে!! সাবধান! ওরা মজলুম!! ওরা মজলুম!! ওরা মজলুম!! মহান আল্লাহু তা’য়ালার সমস্ত ক্ষমতা ওদের পক্ষে! ওদের কোন কলম লাগে না! ওদের কোন বাহুবল লাগে না! ওদের শত্রুকে ঘায়েল করতে দোয়া কবুলে দরুদ শরীফ পড়তে হয় না! ওদের জন্য আকাশের কোন পর্দা থাকে না! বিনা পর্দায়, বিনা বাধায়, ওদেরকে কোনরুপ দোষারোপ না করে, হয়তো নির্গত হয় কখেনোবা করোনা ভাইরাস!!, কখনোবা  হারিকেন! সুনানি! টর্নেঢো! ভূমিধস! ভূমিকম্প! ইত্যাদি বিভিন্ন কুৎসিৎ ও ভয়ংকর রুপ! আমাদের কর্মফল আমরা প্রপ্ত হই হয়তো এভাবে!  না হয় অন্য ভাবে! অন্য নিয়মে! অন্য খামে!। তবে কর্মফল পাইতে আমাদেরকে হবেই হবে!। তবুও কী আমার-আপনার বুদ্ধি-জ্ঞান বা ভয়-ভীতি কিছু হবে না? আর এটিই হলো আমার আপনার রব মহান আল্লাহু তা’য়ালার বিধান।  

এক্ষণে বন্ধন ফাউন্ডেশন সম্পর্কে দু’একটি কথা লিখবো-

15। আমি এ প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রে  উল্লেখ করেছিলাম বন্ধন ফাউন্ডেশন এর ফাউন্ডেশন অফিস এ জায়গাতেই (বর্তমান স্থান) হতে হবে (প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর ক্ষেত্রে অথবা স্বাভাবিক ভাবে ভবিষ্যতে পুণঃনির্মাণ এর ক্ষেত্রে)। আমি আমার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম ।(গঠনতন্ত্র পরবর্তীতে সংশোধন করবো),  যদিও বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার আশা, ত্যাগ স্বীকার ও নিয়ম কানুন জানেওয়ালা তেমন কাউকে দেখছি না; শুরুতে যারা আমার বন্ধু ছিলো, যারা আমার খুব কাছের মুরুব্বি ছিলো, যাদের অনুপ্রেরণা আর সাহসে এ প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিয়েছিলাম; কিন্তু যখনই আমি দেখলাম মার্কেটে প্রচুর টাকা ঋণ খেলাপী হয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা বিপদসংকুল হয়ে যাচ্ছে; আর তখন আমি ঋণ ও ঋণের কিস্তি আদায়ের বিষয়টি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢেলে সাজানোর পর, প্রতিষ্ঠানের সে আপন ব্যক্তিরাই যে যার যেমন কেটে পড়ার চেষ্টা করছে। আসলে এ প্রতিষ্ঠানে যারা একত্রিত হয়েছিলো তাদের প্রায় সবাই নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্যেই এসেছিলো, মানব ও সমাজ সেবা সহ এ প্রতিষ্ঠানের কল্যানমূলক কর্ম সমূহের জন্য তাদের সিংহ ভাগই আসেনি; সেই বন্ধু সম ব্যক্তিদের অনেকে লোনের বিষয়ে, তার কাছে পাওনা কিস্তি সমূহতো মাসের পর মাস দিচ্ছেইনা অধিকন্তু আমার সাথে তর্ক-বিতর্ক করছে, আমাকে অপমাণ করছে এবং আমার সাথে হিংসা ও শত্রুতা করছে; আমার পাওনা টাকা গুলো দিচ্ছে না। আবার তাদের দোসর ও বন্ধু-বান্ধব গণ আমাকে ভূল বুঝছে অথবা বুঝেও আমাকে পর করছে। আর সমাজে বিভিন্ন ধরনের পপাগান্ড ও গীবত, চোগলখুরী ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় অধিকাংশ সদস্য তাদের টাকার ভয়ে আমার কাছ থেকে তাদের টাকাটা নিয়ে যাচ্ছে। তবুও যদি মহান আল্লাহু তা’য়ালা এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে; তবে যেহেতু আমার বংশের প্রায় সবাই এ প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতা ও বিরোধিতা করেছে বা করছে এবং আমাকে ফেলেছে সীমাহীন যন্ত্রণায়, তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানের আগামী কর্মকর্তাবৃন্দ যদি প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরাতে চায়, তবে তারা তা পারবে। আমার এ বিষয়ে কোন বাধ্য বাধকতা থাকবে না। তবে যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি এ গ্রামের মানুষের টাকায় ও তাদের ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত, তাই এটি এ গ্রামে থাকবে, ইহাই আমি চাই । অপরদিকে এ প্রতিষ্ঠানের কোন বংশীয় প্রভাব থাকুক বা কোন বংশীয় পরিচিতি থাকুক তা আমি চাই না (শুধুমাত্র আমার পরিবার ব্যতিত)। অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানের যে কোন বিষয়ে শুধুমাত্র আমার পরিবার ব্যতিত আমার বংশের বাকি সবাইকে অগ্রাহ্য বা উপেক্ষা করা হলো। তার মানে হলো এ প্রতিষ্ঠানের যে কোন নেতৃত্বে বা কর্তৃত্বে বা যে কোন কর্ম পরিচালনায় বা এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানি হওয়ার ক্ষেত্রে আমার পরিবার (পুত্র, কন্যা,স্ত্রী) ব্যতিত এ বংশের অন্য কেউ বিবেচ্য নয়।

এবার সর্বশেষ বিষয়টির বিষয়ে কিছু লিখার চেষ্টা করবো-

16। আমার মন-মাইন্ড এর বিষয়ে পূর্বে আমি বলেছিলাম, মানুষের ধারনা মোতাবেক আমার সাথে কিছু একটা যেন রয়েছে (আসলে এতেকাফে সীমাহীন মানসিক চাপ ও অসম্মানে থাকার কারণে হয়তো এ বিষয়ে একটু হলেও বোধগম্যতা হয়েছিলো; তারপরও মূলে কিন্তু আমি আমার সাথে কিছু একটা আছে, ইহা বলিনি এবং তা মনের বিপরীত, তথা মিথ্যা বলিনি। ইহাকে আমি মহান আল্লাহু তা’য়ালার সাহায্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলাম। আসলে আমি গভীর ভাবে লক্ষ্য করেছি, আমিও সমাজের বাকি দশ জনের মতোই। বর্তমানে আমার এ অবস্থাটির বিষয়ে আমি যা বুঝলাম ( হয়তো এমনও হতে পারে অতীতকে ভূলে গেছি, আমার বিপদের মূহুর্তে, এতেকাফের মত ইবাদতের সময়, মহান আল্লাহু তা’য়ালা তাঁর বান্দাকে সহযোগিতা করবেন , ইহা অস্বাভিবক কিছু না), তা হচ্ছে আমি যখন এতেকাফে যাই ( অন্য সময়ে আমার আমল ইবাদত, মন-মানসিকতা কেউ বোঝার সুযোগ থাকে না) তখন বাকী সবার চাইতে বেশী আমল করি এবং আমার স্বভাব সমষ্টি বাকি সবার চাইতে উন্নত, এমনকি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের চাইতেও। এটি হয়তো আমার বোধগম্যতায় আসে (সঙ্গত কারণে লিখেছি। যা মিথ্যাও হতে পারে)। আর যেহেতু আমি কোন আলেম নই বা সরকারী বেসরকারী কোন পরিচিতিও আমার নেই; তাই আমার এ ঈমান-আমলের মূল্যায়ন আমি উপযুক্ত ভাবে পাই না বরং অনেক ক্ষেত্রেই তিরষ্কার আর উপহাস হিসেবেই পাই, আর ইহাই স্বাভাবিক। এছাড়া আমার পরিবার-পরিজন ও বংশীয় লোকজন বা পরিচিত লোকজনদের প্রায় সবাই আমার টাকা পয়সা নেই, চাকুরি-কর্ম নেই অথচ আকাশ সম কথা বলি ইত্যাদি কারণে সঠিক মূল্যায়নতো করেইনা বরং অপমাণ করে। তার উপর আমি অতিরিক্ত পরিশ্রম করি ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে অধ্যবসায় ও সাধনায় রত থাকি দিনের প্রায় পুরোটি সময়। যেমন এখন রাত দু’টা। এখনো আমি লিখছি, ঘুমাইনি। তার উপর আমার রুটি-রুজির গত পনের মাস ধরে কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। দারিদ্রের কষাঘাতে এবং বন্ধন ফাউন্ডেশেনের লেনদেনে আমাকে থাকতে হয় জর্জরিত। ইত্যাদি কারণ হেতু আমার মন ও ব্রেন দিনের প্রায় শিংহভাগই থাকতে হয় প্রেশার ও শংকা গ্রস্থ এবং অনেক সময়ই হতে হয় অবরুদ্ধ ও অপমাণিত। যার জন্যে ব্রেন ও ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিক বিকাশ বা বহি:প্রকাশের বাধাগ্রস্থতা হেতু অস্বাভাবিক কিছু আচরণগত উপসর্গ দৃষ্ট হয়। মানুষের এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণ প্রকাশিত হওয়া আসলে স্বাভাবিক। তবে তা অবশ্যই কারো ক্ষতিকর বা একেবারে এবনরমাল কোন সিটোয়েশান নয়। এখানে জ্বীন-ভুত বা মনুষ্যপ্রকৃতির ব্যতিক্রম অশরীরী কিছু থাকার কোন যুক্তি নির্ভর দলিল বা বিশ্বাসযোগ্য কিছু আমি দেখতে পাচ্ছি না। অতএব, যদি কেউ কখনো মনে করেন যে, আমার সাথে কিছু একটা আছে, তবে আপনি আমার বিষয়ে স্ট্যাড়ি করলে হয়তো দেখতে পাবেন যে, তখন আমি হয়তো অতিরিক্ত কোন লোড় নিচ্ছিলাম বা অতিরিক্ত ভয় বা আবেগ বা ক্লান্ত-শ্রান্ত ছিলাম অথবা মহান রবের ভয়ে বা তাঁর প্রেমে নতজানু ছিলাম। তাই আমিও সমাজের আর দশ জনের মতোই স্বাভাবিক মানুষ এবং ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমার দ্বারা সম্ভব এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা। তাই ভয় পাবেন না, এ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে, আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন না। ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমরা পারবো।

বিশেষ জ্ঞাতব্য: ইয়া আল্লাহু তা’য়ালা ! এ লিখায় এবং এ ভিড়িওতে আমি অনেকের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে আমি তাদের শত্রু বা হিংসুক নই এবং তাদের অনেককে আমার দ্বারা বয়কট করাও সম্ভব নয় (আমার ইচ্ছা অনুযায়ী)। যেমন আমার স্ত্রী, তিনি আমার জীবন সাথী । আমার স্বভাব হচ্ছে সত্য প্রকাশে আমি অকুন্ঠচিত্ত। কোন ধরনের পারিবারিক বা আত্মীয়তা বা পীর তন্ত্রের বা অন্য যে কোন গ্রুপিং এর লিংক এর কারণে সত্য গোপন করা বা সত্যকে মিথ্যার সহিত মিশ্রিত করা বা অযথা বা হয়রানি মূলক বিভিন্ন মানতেক অবলম্বন করা , এ সবের ধার আমি ধারি না। আমার এলাকার বেশির ভাগ মানুষেরই একটি বিষয় বুঝে আসছে যে, আমার জীবনে যত কষ্ট তার প্রায় সবটাই আমাকে বা আমার উপর যে অত্যাচার করেছে তাকে আমি শ্রদ্ধা করি বা ভালোবাসি বা স্নেহ করি বা অকপটে সত্য বলি, এর জন্যই হয়েছে। তাই কারো উপর ব্যক্তিগত আক্রোশে বা শত্রুতা বা হিংসায় আমি আজকের এ লিখা লিখিনি। আমি আপন, পর বা যে কোন দল, সম্প্রদায় বা গ্রুপের সত্যকে সবসময় সত্য বলি আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলি। সম্ভবত এ কারণে আমি যখন পীরের কাছে যাওয়ার কথা বলি, তখন মানুষ বলে এবং আমাকে শুনিয়েই বলেছে, আপনার জন্য দুনিয়াতে কোন পীর নাই। তাই আমি অনুরোধ করবো, আপনারা কেউ আমার উপর মাইন্ড করবেন না। এগুলো আমি একমাত্র আমার মহান রব ও তাঁর রাসূলের (সা:) জন্যেই বলি। আপনাদের বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোন হিংসা, বিদ্ধেষ, শত্রুতা বা রাগ কিছু্‌ই নেই। আমাকে আমার মালিক একেবারেই নগণ্যতম ও খুব সীমিত জ্ঞান দিয়েছে। আমার রব আমার উপর আমার সব কিছুতেই সামর্থবান ও ক্ষমতাবান। যেহেতু তিনি আমার রব। তাই আমার রবের নিকট আমার অনুনয়; হে রব! তুমি আমার অভিভাবক, আমি তোমার গোলাম। তুমি আমার সৃষ্টিকর্তা, জীবনদাতা, পালনেওয়ালা; আমি তোমার বান্দা। আর তাই আমার সমস্ত চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে (বিবেচনা সাপেক্ষে) আমার জন্য যা ভালো শুধু তাই দিবে। আমায় ক্ষমা করবে। আমার জ্ঞান ও ঈমানের দূর্বলতা হেতু আমার চাওয়া অনুযায়ী যা মন্দ তা দিবে না এবং একই কারণে আমার জন্য ভালো অথচ চাইতে পারিনি, তাও তুমি আমার জন্য প্রদান করবে। আবার ঐ একই কারণে, যেগুলো আমি বুঝিনা বা ভুলে যাই বা বুঝলেও আমি অক্ষম, সেগুলোতে তুমি গায়েবী মদদে তোমার হেফাজতে আমায় কামিয়াবী করবে অথবা তোমার আশ্রয় দিবে। ইয়া মালিক! যদিও আমার বেহেশত আমাকেই উপার্জন করতে হবে ও সাজাতে হবে; আবার যেহেতু তুমি আমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তাওফিক দিয়েছ, আল-আছমাউল হুসনা মুখস্ত করার তাওফিক দিয়েছ, তার মানে হলো তোমার রাসূল (সা:) এর কথা অনুযায়ী তুমি আমাকে দুনিয়ার সমস্ত অপকর্ম থেকে ফিরিয়ে রাখবে। সে সাথে আমার স্ব-জাতি ভাই-বোন দেরকে মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করার, নামাজকে নামাজের মত আদায় করার তাওফিক দিবে। কারণ যে  নামাজকে, নামাজের মত আদায় করে, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা তার সাথে আমার কোন ধরনের বিরোধ থাকবে না। যেহেতু তোমার রহমতে তার উপরে কোন খারাপ কার্জের ক্রিয়া স্থায়ী হবে না। আর তাই আমার দোয়া ও চেষ্টা অনুযায়ী তোমার নেয়ামত প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিতে আমাকে সহ্য করার ও ধর্য্য ধরার তাওফিক দিবে। যা পেয়েছি বা পাবো তার জন্য শুকরিয়া আদায় করার এবং যা পাইনি বা চেষ্টার বা আবেগের বা প্রেমের পরেও পাবো না তা আমার নয় বা এ ব্যাপারে তোমার ফায়সালাই আমার জন্য উত্তম এবং তুমিই আমার প্রকৃত, খাঁটি ও সর্বোত্তম বন্ধু ও তোমার উপরে বা তোমার বিপরীতে কোন বন্ধু নেই, এ বিষয়টি মনেপ্রাণে দৃঢ়মূল ভাবে বিশ্বাস করে সন্তুষ্ট ও খুশি থাকার এবং মুখে সর্বাবস্থায় ও হাল হাওলাতে সব সময় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ জিকির করার তাওফিক দিবে। একই কাজ শত চেষ্টা করে ও কষ্টের পর কষ্ট করে তোমার জন্য গড়ার এবং সে কাজটিই যদি বুঝতে পারি তোমার নয় তবে তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ীই ভেঙ্গে ফেলার ও ভেঙ্গে ফেলতে কোন ধরনের বিচলিত না হওয়ার বা কারো উপর রেগে না যাওয়ার তাওফিক দিবে। একজন মানুষের সাথে তোমার জন্য বন্ধুত্ব করার (হোক সে আমার মা,বাবা বা পুত্র, কন্যা, স্ত্রী বা অন্য যে কেউ) এবং যদি বুঝতে পারি যে তোমার দ্বীন অনুযায়ী তার সাথেই শত্রুতা করতে হবে বা তাকে বয়কট করতে হবে, তবে বিনা শংকোচে এবং আনন্দ, খুশি ও তৃপ্ত মনে তা করার তাওফিক দিবে। তবে এক্ষেত্রে শয়তানের প্ররোচনা ও প্রণোদনা সহ তার যাবতীয় নীল নকসা আমাকে বুঝার তাওফিক দিবে এবং এ বিষয়ে তুমি স্ব-প্রণোদিত ভাবে আমাকে ভালোবাসবে এবং জীবনের এ ধরনের জটিল সিটোয়েশন সমূহতে শুধুমাত্র তুমি নিজ থেকে আমায় ভালোবেসে তোমার আশ্রয় দিয়ে আমায় জয়ী করবে ও তোমার হেফাজত দান করবে এবং আমার এ লিখা ও ভিডিও সমূহ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করবে ও তাদের সকলের নিকট পৌঁছিয়ে দিবে। জীবনের যে কোন কিছুতে মুখ্য ও চির আপন হবে শুধু তুমি; আর কেউ নয়, আর কিছু নয়।  

অতএব, উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য, আমার দোয়া সমূহ কবুল করার জন্য এবং উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আপনার নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি।

নিবেদক,

মুহাম্মদ আরিফ উল্যাহ,

পিতা-মরহুম ডা: ছিদ্দিক আহাম্মদ,

প্রতিষ্ঠাতা: বন্ধন ফাউন্ডেশন (প্রস্তাবিত ও প্রচেষ্টারত)

গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী।

মোবা: 01781472355, 01718981344 (ইমো,হোয়াটস এপপ)

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহু আকবার।

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমার ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এ লিখিত আকারে এবং bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ব্লগসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমার এ সাইটটিতে ক্লিক করে bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য { 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com }  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (ক্লিক করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: