শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মানুষের চরিত্র আজ এমন কেন? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? প্রসঙ্গ: ঋণ ও ধার-উধার প্রদান এবং পরিশোধ।  পাঠ-১, প্রবন্ধ-৬

(ধারাবাহিক)

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আজ রবিবার। ২৬ মুহাররম ১৪৪৩ হিজরী, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রি. ও ২১ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।

নিবেদন ও আহবান: এ ওয়েবসাইটটি রেডী করা হচ্ছে মূলত, (১) ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম, তা অবিশ্বাসীদেরকে যুক্তির আলোকে সহজ ভাষায় বোঝানো ( লিখিত টেক্সট ও ভিডিও কন্টেট এর মাধ্যমে) , তথা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে; (২) ধর্মান্তরীত হওয়ার মাধ্যমে আগত নতুন মুসলিমদের ইসলামের বিভিন্ন আমল-ইবাদত ও নিয়ম-কানুন শিক্ষার সুযোগ ও ক্ষেত্র খুবই কম। তাই তারা যাতে সহজে এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ( bondhonfoundation.com ) দ্বীন শিক্ষা করতে পারে বা সহযোগিতা পায়, সে উদ্দেশ্যে। (৩) এছাড়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যেও বিভিন্ন কারণে অনেক সময় ইসলামী জ্ঞানের অপূর্ণতা থেকে যায়, তারাও যাতে তার প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞানটুকু এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আহরণ করতে পারে, সে উদ্দেশ্যে। অতএব এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আপনাদের সকলের নিকট দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। ইসলাম সম্পর্কে যে কোন কিছু জানতে ও আমল ইবাদত করতে আমাদের এ ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য বা আমাদের ওয়েবসাইটের সহযোগিতা নেয়ার জন্য অথবা আমাদের ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ বা ফেসবুক গ্রুপ ভিজিট করার জন্য অথবা সাবস্ক্রাইব, লাইক, কেমেন্টস, শেয়ার করে সক্রীয় অংশগ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আর কথা না বাড়িয়ে সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায়, আরবী বা উর্দূ বা কোন বিদেশী ভাষা বা অতিরিক্ত কোরআন-হাদিস ব্যবহার না করে, সাধারণ মানুষের নিকট সহজে বোধগম্য শুধুমাত্র বাংলায় মূল বিষয়টির সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনীয় বিবরণ সহ বুঝিয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে আজকের বিষয় আরম্ভ করছি। 

 আজকের বিষয়:

শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মানুষের চরিত্র আজ এমন কেন? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? প্রসঙ্গ: ঋণ ও ধার-উধার প্রদান এবং পরিশোধ। পাঠ-১

[লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (গুগল বা ক্রোমে লিখে সার্চ করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

লক্ষ্যণীয়: আমি নাকি লম্বা লম্বা ভিডিও আর দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাচ্ছি, আমার বিরুদ্ধে আপনারা অনেকেই এ অভিযোগ করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ছোট ছোট প্রবন্ধ লিখি ও ভিডিও দেই। তাই এখন থেকে একই বিষয়ে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছোট ছোট প্রবন্ধ লিখবো ও ভিডিও পাবলিস্ট করবো। এ বিষয়ে এ ভিডিওটি হয়ত সামান্য বড় হবে। কারণ এ ভিডিওতে প্রাসঙ্গিক কিছু লিখার ও বলার প্রয়োজন হয়েছিলো। এ একই বিষয়ে বলতে গেলে বা লিখতে গেলে এগুলো আর বলতে হবে না। ফলে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা এ বিষয়ক পরবর্তী ভিডিও গুলো ছোট করা যাবে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা প্রত্যেকটি বিষয়ের পূর্বাপর সবগুলো প্রবন্ধ ও ভিডিও এবং রিলেটেড অন্যান্য প্রবন্ধ সমূহ ও ভিডিও গুলো টেনে টেনে না দেখে ১ম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেখবেন। না হয় হয়ত বিষয়টির অপূর্ণাঙ্গতা থেকে যাবে বা এ বিষয়ে আমাকেও ভূল বুঝতে পারেন।

জ্ঞাতব্য:  কাউকে অসম্মান না করার লক্ষ্যে এ প্রবন্ধের ঘটনা বাস্তব হলেও নাম গুলো রুপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।তাই কারো নামের সাথে বা কারো চরিত্রের সাথে যদি এ ঘটনার মিল হয়ে যায়, তবে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। কারণ আমি আপনাকে অসম্মান করতে এ প্রবন্ধ লিখিনি বা এ ভিডিও প্রকাশ করিনি। আমি যা করেছি, তা শুধু বর্তমান মানব চরিত্রের বিশ্লেষণ, জ্ঞাতকরণ ও তা সংশোধন এর লক্ষ্যে। তাই আপনাদের কারো সাথে যদি এ ঘটনার মিল হয়েও যায়, তবুও আপনাকে মাইন্ড না করার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ আপনার কারণে আমি সামাজিক শিক্ষা মূলক একটি বাস্তব পোস্ট করতে পারছি। আর আমি আপনাকে কখনোই ঘৃনা করিনা, আমি শুধু চাই আপনি সহ এ সমাজের সংশোধন। অতএব নিজের বিরুদ্ধে কখনোই এ পোস্টকে বিবেচনা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি। কারণ পাপ করা, ইহা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি; কিন্তু ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করা, ইহা হচ্ছে মহত্তের উপায়। আর আমিতো আপনি সহ সকলকে সেই মহত্তের দিকেই আহবান করছি। তাহলে আমার উপর কেন মাইন্ড করবেন বলুন?

আজকের ঘটনা বিষয়ক উপক্রমনিকা :

করিম গরীব মানুষ। তার তেমন কোন অর্থ-সম্পদ, জায়গা-জমি বা চাকরী-বাকরী নেই। তবে দ্বীনদার, শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র ও মানুষের হক যথাযথ প্রদানকারী। মানুষের উপর জুলুম করে বা মানুষকে ঠকিয়ে সে জীবনে কোন কাজ করেনি। তার বিরুদ্ধে এর প্রমাণ এ পর্যন্ত কেউ দিতে পারবে না। বরং মানুষের উপকার করে মহান আল্লাহু তা’য়ালার নৈকট্য কিভাবে হাসিল করবে, এ ছিলো তার জীবনের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সে চিন্তা করে বের করলো যে, যদি পরিচিত জনদেরকে বলি যে, আপনারা আমার কাছে টাকা সঞ্চয়/জমা করেন, আর আমি তা দিয়ে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষদেরকে বা ব্যবসায়ীদেরকে এলাকার আলেম সমাজের তথা আল্লাহু তা’য়ালার ফতোয়া অনুযায়ী বাকীতে মাল বিক্রয় বাবত এবং কিস্তিতে বিক্রয়মূল্য আদায় অনুযায়ী সহজ পদ্ধতিতে লোন দেই এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেও সাবলম্বী ও উপকৃত হই। কারণ মানুষগুলো বিভিন্ন ব্যাংক বা এনজিও বা সমিতির নিকট থেকে লোন আনতে গেলে সুদের গুনার সাথে সাথে তাদেরকে নানাবিধ বিডমম্বনা সইতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় ৫০,০০০/- টাকা লোন আনতে ঋণ গ্রহিতাকে বিভিন্ন ভাবে আরো অতিরিক্ত ১/২ হাজার টাকা খরচ করতে হয় এবং অনেক গুলো স্বাক্ষর, দলিল, স্ট্যাম্প, জামিনদার, নমিনী ইত্যাদি দিতে হয়। সে সাথে অতিরিক্ত সুদের বোঝা এবং কবীরা গুনাহতো থাকেই। আবার সঠিক সময়ে লোনের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারলে হতে হয় চরম অপমাণিত। এ অবস্থায় আমরা যদি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সহজ শর্তে ও বিনা বিডম্বনায় এবং আন্তরিক ভাবে লোন প্রদান করে তাদেরকে দুনিয়ার হাজত পুরণে সহযোগিতা করতে পারি, তাহলে মানুষের সেবা ও ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের বিশাল সাওয়াবের অধিকারী হয়ত আমরা হতে পারবো এবং একার দ্বারা যা কখনোই সম্ভব ছিলো না, যৌথ প্রচেষ্টার ফলে সে রকম বিশাল সাওয়াব হয়ত আমাদের ভাগ্যে জুটবে!!

করিম মানুষদেরকে যখন এ প্রস্তাব দেয়, তখন অনেক মানুষ তার আহবানে রাজি হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সাজানো, সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা মূলক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে বোঝা-পড়া ও তাদের সাথে পরামর্শ, বিভিন্ন সময়ে মিটিং এর আহবান ও সম্পন্ন করণ এবং হিসাব রাখার বিভিন্ন রেজিস্টার তৈরী ও এর সংরক্ষণ সহ  করিমের নিরন্তর প্রচেষ্টা। অবশ্য করিম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা এর প্রায় ৩ বছর আগ থেকেই। তাই অনেক গুলো নিয়ম সাজিয়ে সে একটি গঠনতন্ত্র তৈরী করে রেখেছিলো অনেক আগ থেকেই।এখন মানুষ এ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাজি হওয়াতে সে এ কাজটি তার মতো করে আরম্ভ করতে পারলো। এ জন্য সে মহান আল্লাহু তা’য়ালার শুকরিয়া আদায় করে, আলহামদুলিল্লাহ! মূূলত এখানে সে কাজটি আরম্ভ করেছে, মহান আল্লাহু তা’য়ালার ইবাদত, মানব সেবা এবং শুধুমাত্র তার রবকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যেই। আর কোন উদ্দেশ্য তার ছিলো না। যার পরিপেক্ষিতে সে সমাজসেবার অনেকগুলো নিয়ম-কানুন এবং ৩৩টি ফান্ড সাজিয়ে রেখেছিলো তার গঠনতন্ত্রে। এভাবে শুরু হলো সদস্য বা সঞ্চয়কারী ভর্তি, সঞ্চয় জমা/উত্তোলন, পদত্যাগ, ইসলাম অনুযায়ী লোন প্রদান এবং তার কিস্তি উত্তোলন এবং সঠিক ভাবে এর হিসাব সংরক্ষণ  ও এ বিষয়ক নানাবিধ কর্ম। আর প্রতিষ্ঠানের অতিথি আপ্যায়ন সহ এ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্ম গুলো তার নিজ বসত ঘরে অনেকটা বিনা ভাড়ায় ও বিনা বেতনে এবং ফ্রিতে সে আরম্ভ করলো। সে এ জটিল ও কঠিন কাজ গুলো বিভিন্ন যন্ত্রণা ও অপমাণ সহে যে করতে পারছিলো তার একটিই কারণ; সে মনে করছে এর মাধ্যমে সে মহান আল্লাহু তা’য়ালার ইবাদত করছে , মানবসেবা করছে এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে যে, সে এ প্রতিষ্ঠানটি হযরত ইমাম মাহাদী (আ:) ও হযরত ঈসা (আ:) এঁদের নামে সমান ভাবে ওয়াকফ করবে এবং হযরত ইমাম মাহাদী (আ:) ও হযরত ঈসা (আ:) এঁদের কর্মের ও দার্জাল রুখার একজন গৌন অংশীদারের সাওয়াবের ভাগিদার হবে ও এতে তার বিপুল পরিমাণ সাওয়াব হাসিল হবে । এ উদ্দেশ্যে বিভোর হয়ে প্রচন্ড ধর্য্য-সহ্য আর অপমাণ স্বত্তেও এ কাজটি সে চালিয়ে যাচ্ছে বা যেতে পারছে।

সে আলোকে এ প্রতিষ্ঠানের সদস্য, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিছু বাস্তব কর্মকান্ড ও তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবার আপনাদের সম্মূখে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরবো। আশাকরি এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলো বুঝতে চেষ্টা করবেন এবং নিজেদের কাছে এগুলো থাকলে সংশোধিত হবেন ও সমাজকে এ থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হবেন।

১ নং ঘটনা (ধারাবাহিক)

করিম একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতো।হঠাৎ বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে করোনা নামের মহামারি রোগ দেখা দিলে সরকারের নির্দেশে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। এতে গত সতেরো মাস একটাকাও বেতন না পেয়ে পরিবারে সাত জন সদস্য নিয়ে সে এখন সমাজের মধ্যে সংসার জীবনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ছোটবেলা থেকে সে করে এসেছে শিক্ষকতা। এখন সে অন্য কোন কাজে অভ্যস্তও না; তাকে কেউ অন্য কোন কাজ দিবেও না। তাই বুদ্ধি করে সে ইউটিউব ও ফেসবুকে চ্যানেল ও পেজ খুলে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচার আরম্ভ করে। অবশ্য এ কাজটি সাওয়াব হাসিলের জন্য সে যে আরম্ভ করবে, তা বহু আগ থেকেই মহান প্রভূর নিকট সে কায়মনো বাক্যে চেয়েছিলো এবং এ লক্ষ্যে প্রায় ৩০,০০০/- টাকা ব্যয় করে অর্থলগ্নী এ প্রতিষ্ঠান আরম্ভ করার প্রায় ২/৩ বছর আগে একটি বইও লিখে তা তার হেফাজতে রেখেছে। সময় সুযোগ হলেই ও মহান আল্লাহু তা’য়ালা তাওফিক দিলেই, এ বই ও তার অনলাইন এ প্ল্যাটফর্ম গুলোর সহযোগিতায় সে এ কাজে নামবে, তা তার আশা ছিলো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি নামতে হবে এবং এ পথে জীবিকা তালাশ করবে, তা সে ভাবতে পারেনি।

 রহিম ব্যবসায়ী। কুমিল্লা শহরে তার ব্যবসা। পূর্ব থেকেই তারা পরষ্পর পরিচিত এবং তাদের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আর তাই সহজ প্রক্রিয়ায় ব্যবসার প্রয়োজনে সে করিমের কাছ থেকে ইসলামী নিয়ম মোতাবেক ১০০ দিনে পরিশোধের শর্তে প্রতিদিন ৫৩৫/- টাকা করে পরিশোধ করার চুক্তিতে ৫০০০০/- টাকা লোন নেয়। করিম নিজে রহিমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এসে টাকাটা দিয়ে যায়। তেমন কোন ডকুমেন্ট সে রহিমেরর কাছ থেকে নেয়নি; মানুষকে হয়রানি ও কষ্ট সে দিবেনা এ ছিলো তার নীতি।

কিন্তু  লোন নেয়ার পর রহিম করিমকে প্রতিদিন টাকা দেয় না। করিম বেচারা অনেকদিনই কষ্টকরে টাকার জন্য যায়, কিন্তু প্রায় সময় টাকাতো পায়ই না, অধিকন্তু অপমাণের সহিত তাকে ফিরে আসতে হয়। এভাবে অনেক কষ্ট করে পুরো তিন বছরে মিলে ৩৫০০০/- টাকার মতো আদায় করে।

প্রায় ৩/৪ মাস ব্যবধানের পর সেদিন করিম রহিমের কাছে গিয়েছিলো মূলত তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইভ করার জন্য অনুরোধ করতে। কারণ ইউটিউবের নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে ১০০০ সাবস্ক্রাইভার ও ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম না হলে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে তার ইনকামের আর কোন সুযোগ সে পাবে না এবং সে সাথে তার উপার্জনের আর কোন উপায়ও এ মূহুর্তে আপাতত নেই।

করিম যখন রহিমের কাছে যায়, রহিম তখন তার সাথে কথা বলতে নারাজ। করিম তাকে তার টেবিলে বসতে অনুরোধ করলে, সে ব্যস্ততা দেখায় এবং বসতে অপারগতা প্রকাশ করে। করিম কিছুক্ষণ রহিমের টেবিলের সামনে অসহায়ের মতো বসে থেকে মনের দু:খে ফিরে আসে। কোন উচ্চ-বাচ্য সে করেনি এবং মনে মনে ভাবতে থাকে এ বুঝি বন্ধুত্বের প্রতিদান! এ বুঝি তোমাদের মতো মানুষদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য! করিমের এখন নাভিশ্বাস অবস্থা, বুকের ভিতর চলে হার্টবিট, মাথায় হয় রক্তক্ষরণ। কারণ যারা সঞ্চয় জমা দিয়েছে, তারা তুলতে আসলে আগের মতো তৎক্ষণাত দিতে পারছে না সে। তার সংসার চালানোর প্রয়োজনীয় খরচও সে এখন করতে পারে না। তার ব্যক্তিগত ইনকাম এখন একধম নেই। অপর দিকে ঋণগ্রহিতাগণ কারণে অকারণে বা বিভিন্ন অজুহাতে ঋণের কিস্তি সমূহ দিচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণের কিস্তি আনতে গিয়ে তাকে হতে হচ্ছে চরম অপমাণিত ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদী খেতাবেও আখ্যায়িত হতে হচ্ছে তাকে। সে সাথে কোন কোন ঋণগ্রহিতা করিমের দূর্বলতা বা ভূলগুলো বাড়িয়ে কমিয়ে বা সত্য মিথ্যায় মিশিয়ে সমাজের কাছে তাকে করছে হেয়, দূর্বল ও অপমাণিত। ফলশ্রুতিতে সে ঋণের কিস্তি না দেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছে এবং ঋণের কিস্তি না দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে।

আপনারই বলুন, রহিম টাকা নিয়েছিলো ১০০ দিনের, মানে ৩ মাস ১০ দিনের জন্য। কিন্তু পার করেছে গোটা ৩টি বছর এবং এর মাঝে করিম যে ৩৫০০০/- টাকা আদায় করেছে, তাও তাকে অনেক অপমাণ সয়ে আদায় করতে হয়েছে। আর এখন করিম দূর্বল হয়ে যাওয়াতে, সে করছে আরো অবহেলা। তাহলে ঋণদাতা শুধু শক্ত হলে, বিভিন্ন দিকে ঋণ গ্রহিতাকে বাধাগ্রস্থ করার ক্ষমতা রাখলে (সরকারি/বেসরকারি বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে), তবেই রহিমের মতো লোকেরা ঋণ পরিশোধ করবেন, না হয় ঋণদাতাকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বেন, মানুষের সামনে বা শুধু মুখে আপনাদের ব্যবহার একরকম হবে, বাস্তবে আপনাদের আসল রুপ হবে আরেক রকম অথবা সুযোগ পেলে ঋণ পরিশোধেরই কোন ইচ্ছা রাখবেন না।

আপনাদের মতো লোকদেরকে অনেক সময় মসজিদেও দেখা যায়। আপনি কি মনে করেন মানুষকে কষ্ট দিয়ে, মানুষের হক প্রদান না করে কোন রকম দায় সারা গোচের নামাজ পড়ে অথবা সমাজের মধ্যে ভালো মানুষ বা নামাজি হিসেবে পরিচিত হয়ে, আর শুধু মসজিদে গিয়েই ( যত পাপীই হন না কেন, মসজিদে অবশ্যই যাবেন। না হয় পাপ মুক্তির উত্তম সুযোগ আপনার কই? আর মহান রবের দরজা তো সকলের জন্যেই খোলা এবং তিনি ক্ষমা ও পাপ মুক্ত করতেই ভালোবাসেন) দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার মুক্তি মিলবে? এ বিষয়ে সংক্ষেপে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দু’একটি বাণী তুলে ধরছি। কারণ ভিডিও বড় হয়ে যাচ্ছে।

১) সেই প্রকৃত মুসলমান, যার জিহবা ও হাতের অনিষ্টতা হতে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে (সহিহ্ বুখারি, হাদিস নং ১০)

২) শহীদ ব্যক্তির সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে, কিন্তু ঋণ ছাড়া (মুসলিম: ১৮৮৬)

৩) কোন ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা গেলে রাসূল (সা:) তার জানাজা পড়াতেন না বরং অন্যকে পড়াতে নির্দেশ দিতেন (দারাকুতনি,তারগিব, তারহিব)

৪) যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করে, কিন্তু সে ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা পোষণ করে না, পরিশোধের জন্য তৎপর হয় না, তার নেকি সমূহ ঋণদাতার নেকির সঙ্গে মিশানো হবে; আর নেকি না থাকলে ঋণদাতার গুনাহ্ সমূহ ঋণী ব্যক্তির উপর চাপানো হবে (বায়হাকি, তারগিব, তারহিব)

ঋণগ্রহিতাগণ উপরের প্রত্যেকটি হাদিস যদি ভালো করে বুঝতে চেষ্টা করেন, তবে আপনি কি প্রকৃত মুসলমান? ঋণদাতার সাথে ওয়াদা ভঙ্গের কারণে আপনার ভিতর কি মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়নি? আপনার ও আপনার পরিবারের খাওয়া-দাওয়া, ভরন-পোষণ কি হালাল হচ্ছে? [হারাম ভক্ষণকারীর শরীর বেহেশতে যাবে না (মিশকাত) (হিসাবের সাথে সাথে)] কারণ ঋণদাতাতো আর হালাল ভাবে আপনাকে এ টাকা দিচ্ছে না।যেহেতু আপনি তার সাথে সৎ ব্যবহার গিয়েতো দূরে থাক; আপনি তাকে কষ্ট আর অপমানে জর্জরিত করছেন। তাছাড়া অপনার কারণে, বাকী দশ জনকে সার্ভিস দেয়া যাচ্ছে না, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। এ সবের গুনাহের ভার কি আপনাকে বহন করতে হবে না? কি মনে করেন, এর পরিনাম কি আপনার জন্য শুভ হবে ? তাই এখনো সময় আছে, এ ধরনের প্রত্যেক ঋণগ্রহিতা ঋণদাতার নিকট মাফ চেয়ে জীবনে শুদ্ধ হন, তাওবা করুন , তার পাওনা পরিশোধ করে মুসলমান রুপে কবরে যান। না হয় আমি ১০০% সত্য করেই বলছি, শুধু এ কারণে আপনাকে হয়তো অসহ্য যন্ত্রণা দায়ক আযাবে নিপতিত হতে হবে এবং তখন হয়ত আপনি আর কোন পথও খুঁজে পাবেন না। যেহেতু মহান আল্লাহু তা’য়ালা আলকুরআনে মুমিনদেরকে সম্ভোধন করে বলেছেন, মুসলমান না হয়ে কবরে না আসতে। যাক যে আসলে মানুষ, তার জন্য এর বেশি উপদেশের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। আজ এ পর্যন্ত, কারণ প্রবন্ধ ও ভিডিও এমনিতেই লম্বা হয়ে গেছে মনে হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী ভিডিও গুলো আশা করি ছোট হবে। কারণ সেগুলোর প্রত্যেকটিতে শুধু একটি করে ঘটনা বিবৃত করবো; করিমের পরিচয় ও তার অবস্থান সম্পর্কিত কিছু জানাবো না। তাই সকলকে অনুরোধ করবো এ বিষয়ক পরবর্তী ভিডিও গুলো দেখে নিজকে সংশোধনের লক্ষ্যে ও সুশীল সমাজ গঠনে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করার জন্য।অতএব, সকলকে এ বিষয়ক পরবর্তী ভিডিও দেখার ও প্রবন্ধ পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং আপনাদের ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মঙ্গল কামনা করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

(চলবে)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: