সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হয়রত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:),পাঠ-2, সিরিজ-দ্বীন প্রচার (ধারাবাহিক), প্রবন্ধ নং-০২

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বোনির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আজ সোমবার। 08 জ্বিলহজ্জ 1442 হিজরী এবং 19 জুলাই 2021 খ্রি. ও 03 শ্রাবণ 1428 বঙ্গাব্দ। 

[ভাই, আপনি যদি অমুসলিম হন; তাহলে আপনাকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করলাম এবং পরামর্শ প্রদান করলাম যে, আপনি একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করুন। আর যদি এ বিষয়টি বুঝে না আসে তাহলে এ ওয়েবসাইটে (bondhonfoundation.com) প্রকাশিত বিশেষ করে দ্বীন প্রচার সিরিজের ও ইসলামের পরিচয় সিরিজের এ প্রবন্ধ গুলো মনযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করলাম এবং মুসলিমদেরকেও ঈমান তরুতাজা করার লক্ষ্যে, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ও আমাকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে প্রবন্ধ গুলো পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।]

 আজকের বিষয়:সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হয়রত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা:),পাঠ-2 

(পাঠ-1 এর পর থেকে। টপিক্সটি সম্পূর্ণ বোঝার সুবিধার্থে নিম্নের ব্লগসাইট হতে পাঠ-1 পড়ে এর পর আজকের এ প্রবন্ধটি,  পাঠ-2 পড়ার ও দেখার অনুরোধ রইলো)

 [লিখকের দায়বদ্ধতা ও কন্টেন্ট এর আপডেট প্রসঙ্গে লিখকের ওয়েবসাইট (ক্লিক করুন 

bondhonfoundation.com ), এ সাইটটি থেকে পড়ে নিতে পরামর্শ প্রদান করা হলো]

(ধারাবাহিক) তাহলে এমন লোকের দ্বারা যা অর্জিত হয়েছে  তার কৃয়দাংশ ও যুক্তির আলোকে তিনি যে সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব,  তা  নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

1. বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিশুদ্ধ গ্রন্‌থ আল কোরআন কোন মানুষের সহযোগিতা ছাড়া মুখস্থ করেন (পুরো 30 পারা)। নিজে সে মতে জীবন-যাপন করেন এবং অন্যদেরকেও তদঅনুযায়ী পরিচালনা করেন।

যুক্তি পেশ: সাধারণত আমরা টিচার রাখার পরেও, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পরেও অল্প কয়েক লাইনের ছোট্ট একটি প্রবন্ধ বা কবিতা হুবুহু মুখস্থ করতে পারি না। আর সে ক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মদ (সা:) মানুষের কোনরুপ সহযোগিতা ছাড়াই হুবহু মুখস্থ করেছেন। আবার আমরা কোন একটি বিষয় পড়লেও তা নিজেই  পুরোপুরি মানতে পারি না, সেক্ষেত্রে অন্যকে কেমন করে এর তলকিন দেবো। আর হযরত মুহাম্মদ (সা:) হুবহু নিজ জীবনে আমল করেছেন এবং তাঁরই (সা:) শিক্ষা প্রদান ও সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে তাঁর অসংখ্য সাহাবী (রা:) হুবহু তাঁদের জীবনে আমল করেছেন। একটু চিন্তা করুনতো দেখি পৃথিবী সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত কেউ এ রকম পেরেছে কিনা এবং মনুষ্য প্রকৃতি অনুযায়ী পৃথীবির শেষ পর্যন্ত কেউ পারবে কিনা। কোরআন শরীফের মতো এত বড় একটি কিতাব কোনরুপ টিচার, মাদ্রাসা এসব ছাড়া হুবহু মুখস্থ করবে, আবার অবিকল নিজে আমল করবে এবং হাজার হাজার সাহাবীকে (রা:) তা শিক্ষা দিবে ও তারাও পুরোপুরি মেনে চলবে, এ রকম নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর ছিলো কিনা? যেহেতু আল কুরআনের ঘোষণা তিনি (সা:) সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং যেহেতু ইহা একটি বিশুদ্ধ কিতাব (আল কোরআনের বিষয়ে পরে লিখবো এবং তখন ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আপনাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হবো যে, ইহা বিশুদ্ধ কিতাব। দূর্ভাগ্যক্রমে এতে অবিশ্বাসী হলে, তবে আপাতত আপনি বা আপনারা সবাই মিলে এ রকম একটি কিতাব নিয়ে আসেন। আর যদি না পারেন, তাহলে…) তাই পৃথিবীর শেষ পর্যন্তই তিনি (সা:) সর্বশ্রেষ্ঠ। অতএব আপনার জ্ঞান অনুযায়ী এটি নিশ্চয় প্রমাণিত যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। আর যদি আপনি না মানেন তাহলে কে এ যোগ্যতার অধিকারী (উপরোক্ত বিষয়ের বিচারে) তার নাম বলুন এবং আবেগী বা সংস্কারে আচ্ছন্ন না হয়ে যুক্তি পেশ করুন। আর যদি না পারেন, তাহলে আমাদের যুক্তি মেনে নিতে আপনার বা আপনাদের বাধা কোথায়?

2. একটি ধর্মের প্রবর্তন করলেন। বিশ্বে যার অনুসারী বর্‌তমানে প্রায় 1.6 বিলিয়ন এবং যা একটি প্রথম শ্রেণীর বর্ধনশীল ধর্ম (ধর্মান্তরিত হয়ে)।

যুক্তি পেশ: এ বিষয়ক পার্ট-1 থেকে আপনি অবগত হয়েছেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) ইয়াতিম, অর্থহীন…ছিলেন (এবং অন্যান্য)। আর মানুষের মাঝে মতাদর্শের বাস্তবায়ন ঢনাঢ়্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিবৃন্দতো নয়ই, এ ধরনের ব্যক্তির দ্বারা কিছুতেই সম্ভব নয়। আপনার কি মনে হয়, পারবেন?  আপনার মতো করে নতুন কোন মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে? প্রয়োজনে দুনিয়ার সব ধন-সম্পদ আর ক্ষমতা একত্রিত করুন এবং সবাই মিলে চেষ্টার পর চেষ্টা করুন; কী মনে হয় পারা যাবে? বা কেউ পারবে বলে কি মনে করেন? অন্যদিকে অতীতে অন্যান্য ধর্মপ্রচারকগণ যারা তাদের মতাদর্শ প্রচার করেছে, তাদের কারো অবস্থা এ রকম ছিলো না এবং তাদের সে মতাদর্শ ইসলাম ধর্মের মতো এ রকম ক্রিয়াশীলও নয়। অতএব ইহা প্রমাণিত সত্য যে,  হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। 

3. ছোট বেলা থেকেই তিনি শত্রু-মিত্র সকলের কাছে সত্যবাদী, বিশ্বাসী ও বিনয়ী ছিলেন। জীবনে কেউ কোনদিন তাঁকে ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদি, জুলুমবাজ, আমানতের খেয়ানতকারী ও অবিশ্বাসী (নাউজুবিল্লাহ) বলেনি। যার প্রমাণ ইতিহাস থেকে আপনি দিতে পারবেন না।

যুক্তি পেশ: ইতিহাস বিষয়ক পৃথিবী সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো বই, পত্রিকা বা অডিও, ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, এ সব গুলোতে উপরে উল্লেখিত বিষয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:) এঁর নামই সবচাইতে বেশি আলোচিত হয়েছে এবং প্রমাণিত সত্যরুপে স্বীকার করা হয়েছে। একটি মানুষ দুনিয়ায় এসেছে বা আসবে, আর তার বিষয়ে কেউ কোন ধরনের সমালোচনা বা অভিযোগ করবে না; বরং ইতিহাস স্বাক্ষী দিবে যে এবং ইতিহাসে লিখা থাকবে যে, তিনি সত্যবাদি, বিশ্বাসী, আমানতদার….ছিলেন। জীবনে কারো কোন ক্ষতি করেন নি…। আপনার কী মনে হয় এ রকম নজির আর আছে ? বা এ রকম হতে পারে কিনা? এ রকম গুন নিয়ে মানুষ ইতিহাসে উঠে আসবে, আমার কিন্তু মনে হয় না। আপনার কেমন মনে হয়? তাহলে দু’একজন দেখান? আর যদি না পারেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। না হয় আপনার যুক্তি পেশ করুন।

4. একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ রাষ্ট্রের সংবিধান প্রবর্তন করেন এবং সে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তা পরিচালনা করেন ও তার সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করেন।

যুক্তি পেশ: হযরত মুহাম্মদ (সা:) এঁর শৈশব ও যৌবন কালের শিক্ষাগ্রহণ, দারিদ্রতা ইত্যাদি বিষয়ের আলোকে আপনার কি মনে হয় এ ধরনের কোন মানুষের দ্বারা উপরে উল্লেখিত এ ধরনের কাজ সম্ভব? অতীতে আর কেউ পেরেছিলো কি? না পারবে? এ পয়েন্টে হয় আপনি বলবেন, পৃথিবী সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত সময়ে এ রকম কোন ইয়াতিম  এবং অর্থ ও ক্ষমতাহীন ব্যক্তি এ রকম পেরেছে। মানে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সংবিধান প্রবর্তন করেছে এবং সে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তা পরিচালনা করেছে ও তার সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করেছে।  আর যদি না পারেন  তাহলে আপনাকে অবশ্যই বলতে হবে হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। আপনার মন ও ব্রেনকে প্রশ্ন করুন আমরা যা বলেছি কথাগুলো সত্য কিনা। না হয় দুনিয়াতে অনেক জ্ঞান-বিজ্ঞানের কাজ করেছেন, অনেক ওকালতি করেছেন, এখন এ বিষয়ে আপনার যুক্তি পেশ করুন, আমরা আপনার যুক্তি খন্ডন করবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা।

5. সফলভাবে শিক্ষক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক, পরিবার প্রধান ইত্যাদির পরিচয় দেন।

যুক্তি পেশ: 300 জন ছাত্রের আমাদের  একটি হাই স্কুলে, প্রায় 10 জন শিক্ষকের প্রয়োজন পড়ে, তাও যা শিখানো হয়, বেতের বাড়ি দিয়ে শুধু পড়া টুকু আদায় করতে হয়, নিজের জীবনে বাস্তবায়ন তো দূরের কথা। আর হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রায় 1 লক্ষ সাহাবীরও(রা:) উপরে শিক্ষকতা সহ উপরে উল্লেখিত সব গুলো পেশায় তাদের সকলের উপর সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং সবাই তাঁকে (সা:) যেভাবে মানছে ও আজ প্রায় সাড়ে চৌদ্দ’শ বছর পরেও আমরা মুসলমানগণ যেভাবে মানছি ও তাঁর সম্মানে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দিচ্ছি, উৎস্বর্গ করছি আমাদের সমস্ত জান,মাল আর সন্তান সন্ততি; আপনি কি পৃথিবীর এ পর্যন্ত আর কোন শিক্ষক, ডাক্তার বা যে কাউকে এ রকম সম্মানে ভূষিত হচ্ছে, তা দেখাতে পারবেন? । আর গিয়ে দূরে থাক শুধু দুই জন নতুন মানুষ যদি আপনার মতাদর্শে আকৃষ্ট হয় (উদাহরণ স্বরুপ), তবে শুধু এ দুইজন মানুষকে শিক্ষা দিতেই হয়তো আপনি পারবেন না। আর পারলেও যদি স্বার্থ না থাকে তবে তারা আপনাকে অর্ধেক মানবে, আর অর্ধেক মানবে না। আর আপনি নিচ্ছয় বুঝতে পারেন  তাঁর (সা:) সাহাবীগণ (রা:) এবং বর্তমানে আমরা তাঁকে কেমন অনুসরণ করি, কেমন আন্তরিকতা ও মুহাব্বত রাখি? এখন আপনি হয় এ রকম আর একজনের নাম বলবেন ও এর স্বপক্ষে আপনার যুক্তি পেশ করবেন; না হয় আমাদের সাথে একমত হয়ে সমস্বরে বলবেন হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।  

6. তাঁর (সা:) মতাদর্শ যাতে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে সে ব্যবস্থাও করেন।

যুক্তি পেশ: দেখুন হযরত মুহাম্মদ (সা:) কর্তৃক প্রবর্তিত মতাদর্শ আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ সিস্টেম তিনিই (সা:) করে গিয়েছিলেন এবং তিনিই (সা:) বলে গিয়েছিলেন। এমনকি মানুষের অনেক পার্সোনাল বিষয় পর্যন্ত তিনি (সা:) শিক্ষা দিয়ে গেছেন। উনার (সা:) মতো এভাবে সফলতার সহিত শিক্ষা প্রদান অন্য কোন ধর্ম প্রবর্তকের নেই এবং ইসলাম ধর্মের মতো এ রকম ধর্মান্তরিতের ইতিহাস বা স্ব-ধর্মের মধ্যে এতো ধর্মীয় অনুশীলন আর কোন ধর্মীয় প্রবর্তকের ধর্মের মধ্যে নেই। যার (সা:) সাহাবীগণ (রা:) শুধু ধর্ম প্রচারের জন্যে নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। তাঁর প্রতি মান্যতা এবং তাঁর নির্দেশেই এমনটি ঘটেছিলো (যদিও ধর্ম প্রচারের জন্য একেবারে দেশান্তরিত হওয়া, ইহা নবীজি (সা:) বাধ্যতামূলক করেননি)। এভাবে ধর্মীয় মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার বা বর্ধনশীলতার নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই। তাই ইহা নি:সন্দেহে সত্য যে,  হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। আর যদি আপনি না মানেন, তাহলে এ বিষয়ে আপনার জ্ঞান মতে আর কারো নাম বলুন এবং যুক্তি পেশ করুন। আমরা আপনার যুক্তি খন্ডন করবো ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা।

7. হিন্দু ধর্মসহ আরো কয়েকটি ধর্মে তাঁর (সা:) নাম ভবিষ্যতদ্বানী ও তাঁর (সা:) গুণের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।

যুক্তি পেশ: এভাবে এক ধর্মীয় প্রবর্তকের নাম আরেক ধর্মে থাকবে, ইহা কিন্তু সাধারণ নয় এবং এর নজির অন্য কোন ধর্মীয় প্রবর্তকের বা মতাদর্শ প্রবর্তকের ক্ষেত্রে নেই। থাকলে আপনি বলুন। যদি না পারেন তাহলে ইহা প্রমাণিত সত্য যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।

8. তাঁর (সা:) জীবদ্দশায় যারা তাঁর (সা:) শত্রু ছিলেন, তারাও গোপনে তাঁর (তাঁর) কুরআন তিলাওয়াত শুনতেন এবং তাঁকে সত্যবাদী, বিশ্বাসী ও আমানতদার বলে স্বীকার ও বিশ্বাস করতেন। আপনারা নিশ্চয় জানেন, যেদিন তাঁকে (সা:) শেষ করে দেয়ার জন্য (নাউজুবিল্লাহ) সবাই তাঁর (সা:) ঘর ঘেরাও করলো এবং তখন তিনি (সা:) ঐ ঘরের ভিতরে অবস্থান করছিলেন, সেদিনও তাঁর (সা:) কাছে সে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়েরই মালামাল ছিলো, যারা তাঁকে (সা:) মেরে ফেলার জন্য (নাউজুবিল্লাহ) তাঁর (সা:) ঘর ঘেরাও করছিলো। আর জীবন-মরণের এ পরিস্থিতি ও পেরেশান অবস্থায় তাদের আমানত সমূহ তখনও তিনি (সা:) হযরত আলী (রা:) এর নিকট বুঝিয়ে দিয়ে, ঘরের চার পাশের কঠোর বেষ্টনী অতিক্রম করে মদিনায় হিজরত করতে সমর্থ হয়েছিলেন।

যুক্তি পেশ: অন্যকোন ধর্মীয় প্রচারকের ক্ষেত্রে তার শত্রুরা তার ধর্মীয় বাণী গোপনে শুনবে বা তাকে বিশ্বাসী, সত্যবাদি, আমানতদার বলবে এ নজির নেই। আবার ঘরের চারপাশ দিয়ে মেরে ফেলার জন্য ঘেরাও করে ফেললে এবং এ অবস্থায় তিনি তাদেরই সম্প্রদায়ের অর্থাৎ সে বিরোধী পক্ষের আমানত সমূহ যথাযথ ভাবে প্রদানের ব্যবস্থা করবেন ও বেষ্টনী ভেদ করে বেরিয়ে যেতে পারবেন,  এগুলো কখনোই সাধারণ ঘটনা নয় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যান্য ধর্মীয় প্রবর্তকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা নেই ও যা স্বাভাবিকও নয়। আপনার কাছে যদি অন্য কোন যুক্তি থাকে তবে বলুন, না হয় আপনাকে অবশ্যই স্বীকার ও বিশ্বাস করতে হবে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।

9. তাঁর (সা:) জন্মেরও বহু আগে বাদশা তুব্বা তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর আগমনের স্থান বুঝতে পেরে তাঁর জন্য মদিনায় একখন্ড জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে যান এবং তাঁর উটনী ( যে উটে সাওয়ারী হয়ে তিনি হিজরত করেছিলেন), অটমেটিক্যালী সে জায়গায় গিয়েই অবস্থান করে, যদিও তৎকালীন সময়ে মদিনা শরীফের অনেকেই তাঁকে (সা:) তাদের স্থানে অবস্থান করতে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করেছিলো।

যুক্তি পেশ: অন্যধর্মের জ্ঞান মতে ভবিষ্যতের সত্য  ধর্ম প্রবর্তক হিসেবে সে ধর্মের অনুসারী কোন মানুষ আমাদের নবীজির (সা:) জন্য তাঁকে নির্দিষ্ট করে তাঁর জন্মের বহু পূর্বে অনির্দিষ্ট একস্থানে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে যাবেন। আবার সে জায়গায় নবীজির (সা:) সাওয়ারী উটনী আমাদের নবীকে (সা:) নিয়ে  অটোমেটিক ভাবে অবস্থান নিবে। এতো নিশ্চয় অসাধারণ এবং আমাদের মতো মানুষদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। যা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটেনি। অতএব নিশ্চয় হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।

10. বর্তমান বিশ্বে অনেক বিধর্মী পন্ডিতবৃন্দের বিভিন্ন বক্তব্যে ও তাদের লিখা বিভিন্ন বইতে তারা হযরত মুহাম্মদকে (সা:) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ রুপে উল্লেখ করেছে এবং করেই চলেছে। আপনি এর প্রমাণ চাইলে এর ভূরি ভূরি প্রমাণ ইতিহাস থেকে আপনি পেয়ে যাবেন এবং বর্তমানকার ইউটিউব ও গুগল থেকেও এর যথেষ্ট প্রামাণ্য দলিল বা প্রামাণ্য চিত্র আপনি পেতে পারেন।

যুক্তি পেশ: পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্মীয় বা মতাদর্শের প্রবর্তক রয়েছে। কিন্তু ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এ পৃথিবীর বুদ্ধিদীপ্ত মানুষগুলো ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদকে (সা:) সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে অন্যকোন মানুষকে এভাবে কেউ স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। এতে প্রমাণিত হয় আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।  

জ্ঞানপিপাসু ও অবিশ্বাসী ভাই-বোনদেরকে বিনীত ভাবে বলছি উপরোক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করলে আপনি কি বুঝেন না যে, এ ধরনের একজন সাধারণ মানুষের দ্বারা এ কাজ গুলো কখনোই সম্ভব নয়। নিশ্চয় তিনি আল্লাহু তা’য়ালার নবী। কেবলমাত্র আল্লাহু তা’য়ালার সরাসরি সাহায্যেই প্রায় শূন্য থেকে জীবনে এত সফলতা আসতে পারে। ইয়াতিম ও সম্পদহীন হয়েও এত কাজ সম্ভব হতে পারে। অতএব আল কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী তিনি কি সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নয়? অন্য কোন ধর্মগ্রন্থের প্রবত্বক কি তাঁর সমান? তাহলে কেন তাঁকে মেনে নিবেন না? একটু চিন্তা করুন। সত্য অনুসন্ধানের জন্য একটু সময় দিন। এ বিষয়ে আপনার যদি সময় নাই থাকে, তাহলে মাইন্ড করবেন না, দুনিয়াতে কি শুধু খাওয়া-পরার জন্যই এসেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে অথবা যে কারণেই হোক না কেন, আপনি যদি এ বিষয়ে ভাববার সময় না পান; তবে যখন আপনার আর কোন সময় বা সুযোগ থাকবে না, তখন হয়ত আপনার আর কোন অভিযোগ গৃহিত হবে না, যেহেতু অন্যান্যদের পাশাপাশি আমিও এ কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত আপনাকে দিয়েছি এবং দিচ্ছি ও বুঝাতে চেয়েছি যে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব এবং এখনও যদি ইসলামই একমাত্র সত্যধর্ম এ কথাটি আপনার বুঝে না আসে তবে  ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো অনেক গুলো যুক্তিময় কন্টেন্ট দিয়ে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমি আপনাকে বোঝাতে সক্ষম হবো যে, আমাদেরকে শুধুমাত্র এক আল্লার ইবাদতই করতে হবে, আর কারো নয় এবং পৃথিবীতে ধর্ম শুধু একটিই সত্য, তার নাম ইসলাম।   তাই আমার সাইট গুলোতে প্রকাশিত বিষয় গুলো পড়ার, দেখার, গবেষণা করার এবং ইসলাম শিক্ষা ও ইসলাম প্রচার-প্রসারে অংশ নেয়ার নিমিত্তে সাইট গুলি সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ জানানো হলো। আপনারা সবাই সুখে থাকুন, সুন্দর থাকুন, সুস্থ থাকুন, উজ্জল হোক আপনাদের সকলের স্বপ্নময় ভবিষ্যত। করোনার মতো এ মহামারি থেকে মহান আল্লাহু তা’য়ালা আমাদের সকলকে মাফ করুক। আল্লাহ হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।  (চলবে) 

[দায়বদ্ধতা, জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা: এ পাঠটি আমাদের ওয়েবসাইট bondhonfoundation.com এ লিখিত আকারে এবং bondhon foundation education এ নামীয় ইউটিউব চ্যানেল এবং এ একই নামীয় ফেসবুক পেজে ভিডিও আকারে পোস্ট করা হবে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা। এ প্রবন্ধ ও এর ভিডিও’র সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের।যেহেতু মানুষ ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, তাই ভূল-ত্রুটি সমূহ (যদি থাকে) সংশোধন করা বা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার লক্ষ্যে কমেন্টস দিয়ে, লাইক এবং শেয়ার করে ও ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রাখছি। আমার যে কোন লিখার এবং ভিডিও এর সংশোধন ও আপডেট এর বিষয়ে আমি শুধু আমার এ ব্লগসাইটটিতেই প্রকাশ করবো। তাই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অন্তত একবার আমার এ সাইটটিতে ক্লিক করে bondhonfoundation.com আপনার ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সংশোধনী বা আপডেট আছে কিনা তা দেখে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বা যেকোন ভাবে আমাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য [ 01718981344 (ইমু), 01781472355, ইমেইল: a30761223@gmail.com, web: bondhonfoundation.com ]  বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আবার নরমালিই আমার যে কোন প্রবন্ধ আমার মূল সাইট, অর্থাৎ এ সাইটটি থেকে (ক্লিক করুন) bondhonfoundation.com পড়লে , তবে ইহা বেস্ট হবে বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে অন্যান্য সাইট সমূহে হয়তো প্রত্যেকটি প্রবন্ধ বা ভিডিও সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বা বিচ্ছিন্ন ভাবে কোন একটি বিষয়ের কোন একটি পার্ট অনলাইনের যে কোথাও যে কোন কারণেই হোক না কেন হয়তো প্রকাশিত হতে পারে, এজন্যে পুরো বিষয়টি বুঝে না আসলে, এ ধরনের বিষয় গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আপনাদের প্রতি আমার উপরোক্ত মূলসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। আর এমনিতেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো আমি লম্বা লম্বা ভিডিও পোস্ট করি, যাতে আপনাদের ধর্জচ্যুতি হয়। তাই কোন  একটি বিষয় যদি আপনার বুঝে না আসে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ঐ বিষয়ক পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ও এ বিষয়ক ভিডিও [ শুধুমাত্র bondhon foundation education অথবা bondhon foundation official এ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ থেকে, ইউটিউব বা ফেসবুকে সার্চ করে] দু’টিই দেখার ও পড়ার (উপরোক্ত ওয়েবসাইট থেকে) অনুরোধ রইলো। আবার আমি পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ বা কোন দোয়া-দরুদ মুখস্থ করণ বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন বিষয়ক ভিডিও ব্যতিত অন্যান্য সকল ভিডিও রেকডিং এর পূর্বে অবশ্যই প্রথমে এ  বিষয়ক প্রবন্ধ লিখবো এবং এর পর সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো, যাতে লিখা ও বলা, উভয় মাধ্যমে কোন একটি বিষয়কে আমি কী বলতে চাই, তা ভালো ভাবে বোঝানো যায়। যাক লিখা আর লম্বা না করে কলম, কালি, ইসলাস শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও মানব সেবা; এ কর্মগুলোর মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারার জন্য মহান রবের নিকট আমার জন্য সকল পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকবৃন্দকে দোয়া করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন্ধন ফাউন্ডেশন: